
কেবল মিষ্টি খেলেই যে রক্তে শর্করা বা সুগার বাড়ে তা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোটখাটো ভুল অভ্যাসের কারণেও সুগার বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য ৭টি সাধারণ ভুল নিচে তুলে ধরা হলো:
-
খالی পেটে দুধ চা বা কফি: ঘুম থেকে উঠে চিনিযুক্ত কড়া চা বা কফিতে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। রাতের দীর্ঘ উপবাসের পর হঠাৎ চিনি বা ক্যাফেইন পেটে গেলে তা দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায় এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। তাই কফি বা চা নাস্তা খাওয়ার পর এবং চিনি ছাড়া বা পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
-
ঘুম ভেঙেই আলস্য: বিছানায় উঠেই মোবাইল দেখা বা অলস বসে থাকা সুগার বাড়ার অন্যতম কারণ। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে, যা শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। সকালে হালকা হাঁটাচলা না করলে পেশি সচল হয় না এবং রক্তে জমে থাকা গ্লুকোজ ব্যবহার না হয়ে রক্তেই থেকে যায়।
-
সকালে ঘুম থেকে উঠে ধূমপান: তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। খালি পেটে ধূমপান করলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
-
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া: শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে রক্তে শর্করার ঘনত্ব বেড়ে যায়। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমের পর সকালে পানি না খেয়ে অন্য কিছু খাওয়ার অভ্যাসেও সুগার বাড়তে পারে।
-
সময়মতো খাবার না খাওয়া: কাজের চাপে অনেকেই দেরিতে বা অসময়ে খান। দীর্ঘ সময় পেট ফাঁকা থাকার পর দেরিতে খেলে লিভার গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠাতে থাকে, ফলে সুগার দ্রুত বেড়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট বিরতিতে আঁশযুক্ত, আমিষ ও শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
-
পর্যাপ্ত না ঘুমানো: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায় এবং হুট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর আগে ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।
-
ওষুধে অনিয়ম: কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া বা ওষুধের রুটিনে পরিবর্তন আনা উচিত নয়।
প্রতিবেদকের নাম 





















