
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ১৫ নং বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বানিয়ার গাতি গ্রাম বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত শিল্প বর্জ্যের কারণে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য যথাযথভাবে শোধন না করে উন্মুক্ত পরিবেশ ও নদীতে ফেলার ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং পরিবেশ দূষণ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কয়েকটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ETP) ছাড়াই দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতিকর বর্জ্য পরিবেশে অবমুক্ত করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্যারাগন গ্রুপের , যশোর ফিড,। ও নারিশ ফিড তালুকদার প্লাস্টিক কারখানা, চাঁদ ফিড মিলসহ পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া সিপি (বাংলাদেশ) সংশ্লিষ্ট মুরগির বাচ্চা উৎপাদন কার্যক্রমের পচা ডিম, মৃত বাচ্চা ও অন্যান্য পোল্ট্রি বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় পরিবেশ দূষণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইসঙ্গে চায়না ব্যাটারি উৎপাদনকারী কারখানা। এবং আছিয়া অটো রাইস মিলের রাসায়নিক ও ধোঁয়া-ছাই মিশ্রিত বর্জ্য পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসী জানান, পচা ডিম, মৃত মুরগির বাচ্চা এবং বিভিন্ন শিল্প বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার আশঙ্কা বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি এবং দূষিত হয়ে পড়ছে স্থানীয় জলাশয় ও পানির উৎস।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “কারখানাগুলো ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে, কিন্তু তাদের বর্জ্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের পর Channel A1 এর অনুসন্ধান, ১৩০ ডিগ্রি টিমের সদস্য ও জাতীয় দৈনিক আমাদের পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ উজ্জল হোসেনসহ অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদের বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ফোনকরে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে তারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।
সাংবাদিকরা জানান, জনস্বার্থে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি তুলে ধরার কারণে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 

























