ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সমালোচনার মুখে টিকটক লাইভে তরুণীর মৃত্যু, ঘিরে চাঞ্চল্য বিসিবির লেভেল-২ কোচিং কোর্সে পাস মাত্র ৮, ফেল ২৪ স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ ভিসার এশিয়া-প্যাসিফিক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ পাটকল চালু হচ্ছে, কর্মসংস্থান হবে ১১ হাজারের বেশি তিক্ততা ভুলে দুই প্রতিবেশীর এগিয়ে যাওয়ার বার্তা রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সমালোচনার মুখে টিকটক লাইভে তরুণীর মৃত্যু, ঘিরে চাঞ্চল্য

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় টিকটকে লাইভ সম্প্রচারের সময় মিনা চ্যান নামের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ভক্তদের তীব্র সমালোচনা ও অনলাইনে হয়রানির পর তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদনে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

মিনা চ্যান ছিলেন জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড এনহাইপেনের একনিষ্ঠ ভক্ত। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজারের বেশি। জাপানি এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করতেন।

কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট নিজ বাসা থেকে টিকটকে লাইভ সম্প্রচারের সময় ঘটনাটি ঘটে। ইয়ংসান পুলিশ স্টেশনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমটিকে জানানো হয়, চ্যানের এক পরিচিতজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটের দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুনঃ  মজুত কমে যাওয়ায় অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাপ দিচ্ছে পেন্টাগন

লাইভ চলাকালে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাকে সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে চ্যানের ছোট বোন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বোনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সবাইকে তাকে নিজেদের চিন্তা ও প্রার্থনায় রাখার অনুরোধ জানান।

যে ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন চ্যান

মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এনহাইপেনের একটি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চ্যান সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  জিৎকে দলে নিতে চায় বিজেপি, প্রস্তাবের বিষয়ে যা বললেন অভিনেতা

ওই অনুষ্ঠানে তিনি ব্যান্ড সদস্য সুনুর মাধ্যমে আরেক সদস্য নি-কি’র কাছে ফুল পাঠানোর চেষ্টা করেন। নি-কি ও চ্যান দুজনই জাপানের নাগরিক। এই ঘটনার পর কিছু ভক্ত চ্যানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

এরপর গত ৩১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে চ্যান ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।

তিনি জানান, সুনুর সদয় আচরণের সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে তার মনে হয়েছে। একই সঙ্গে এনহাইপেনের ফ্যানসাইন ইভেন্টে একাধিকবার অংশ নেওয়ার কারণে তিনি ভুল করে ব্যান্ড সদস্যদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন।

চ্যান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অনুষ্ঠানে তার আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্ত। নি-কি’র সঙ্গে দেখা করার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে অনুষ্ঠানের পরিবেশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও ক্ষমা চান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা, ঋতুর জিপিএ-৫; উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কা

মৃত্যুর পর শোক

সমালোচনার পরও চ্যানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ও হয়রানি অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন।

একজন অনুসারী মন্তব্যে অনলাইন ফ্যানডমে ঘৃণা, হয়রানি ও অতিরিক্ত দোষারোপের সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। তিনি চ্যানকে সহানুভূতিশীল ও সদয় একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ঘটনাটি আবারও অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং তারকাদের ঘিরে অতিরিক্ত আবেগ কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সমালোচনার মুখে টিকটক লাইভে তরুণীর মৃত্যু, ঘিরে চাঞ্চল্য

সমালোচনার মুখে টিকটক লাইভে তরুণীর মৃত্যু, ঘিরে চাঞ্চল্য

আপডেটের সময়: ০৭:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় টিকটকে লাইভ সম্প্রচারের সময় মিনা চ্যান নামের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ভক্তদের তীব্র সমালোচনা ও অনলাইনে হয়রানির পর তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদনে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

মিনা চ্যান ছিলেন জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড এনহাইপেনের একনিষ্ঠ ভক্ত। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজারের বেশি। জাপানি এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করতেন।

কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট নিজ বাসা থেকে টিকটকে লাইভ সম্প্রচারের সময় ঘটনাটি ঘটে। ইয়ংসান পুলিশ স্টেশনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমটিকে জানানো হয়, চ্যানের এক পরিচিতজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটের দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুনঃ  ১১ শিক্ষক, তবু এসএসসিতে তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি

লাইভ চলাকালে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাকে সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরদিন ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে চ্যানের ছোট বোন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বোনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সবাইকে তাকে নিজেদের চিন্তা ও প্রার্থনায় রাখার অনুরোধ জানান।

যে ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন চ্যান

মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এনহাইপেনের একটি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চ্যান সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির মহাসচিব পদে রিজভী এগিয়ে, আলোচনায় আরও কয়েকজন

ওই অনুষ্ঠানে তিনি ব্যান্ড সদস্য সুনুর মাধ্যমে আরেক সদস্য নি-কি’র কাছে ফুল পাঠানোর চেষ্টা করেন। নি-কি ও চ্যান দুজনই জাপানের নাগরিক। এই ঘটনার পর কিছু ভক্ত চ্যানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

এরপর গত ৩১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে চ্যান ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।

তিনি জানান, সুনুর সদয় আচরণের সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে তার মনে হয়েছে। একই সঙ্গে এনহাইপেনের ফ্যানসাইন ইভেন্টে একাধিকবার অংশ নেওয়ার কারণে তিনি ভুল করে ব্যান্ড সদস্যদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন।

চ্যান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অনুষ্ঠানে তার আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্ত। নি-কি’র সঙ্গে দেখা করার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে অনুষ্ঠানের পরিবেশের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও ক্ষমা চান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  প্যাথলজির ফ্রিজে রোগের নমুনার বদলে মিলল মাছ, জরিমানা

মৃত্যুর পর শোক

সমালোচনার পরও চ্যানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ও হয়রানি অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন।

একজন অনুসারী মন্তব্যে অনলাইন ফ্যানডমে ঘৃণা, হয়রানি ও অতিরিক্ত দোষারোপের সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। তিনি চ্যানকে সহানুভূতিশীল ও সদয় একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ঘটনাটি আবারও অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং তারকাদের ঘিরে অতিরিক্ত আবেগ কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।