টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ সাধারণত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সভা-সমাবেশ থেকে দূরে থাকেন। তবে গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মনোনীত প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক জল্পনা। এরই মধ্যে অভিনেতাকে দলে ভেড়াতে বিজেপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন জিৎ। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন
তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা বিজেপির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জিৎ বলেন, ‘হ্যাঁ, হয়েছিল। কিন্তু আমি নিজেকে রাজনীতিতে দেখি না, তাই আমি এসব থেকে দূরে থাকি।’
অভিনেতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও আপাতত রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তার।
শুভেন্দুর শপথে উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা
গত ৯ মে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জিৎ উপস্থিত থাকায় তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে অভিনেতা জানান, এর আগেও তিনি রাজনৈতিক নেতার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জিৎ বলেন, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও তিনি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থাৎ, কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পক্ষে নন এই অভিনেতা।
‘শিল্প ও রাজনীতি আলাদা রাখা উচিত’
গত ১৫ বছরে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে রাজনীতির প্রভাব এবং বিপুলসংখ্যক অভিনেতার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়েও কথা বলেন জিৎ।
তার মতে, চলচ্চিত্রশিল্প ও রাজনীতি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্র। তাই এগুলোকে আলাদা রাখাই ভালো।
জিৎ বলেন, ‘শিল্প ও রাজনীতি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারা, এগুলোকে একে অপরের থেকে আলাদা রাখা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার সঙ্গে সৃজনশীলতার সম্পর্ক তৈরি হলে সৃজনশীলতা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তার ভাষায়, সৃজনশীল মানুষদের নিজেদের কাজেই মনোযোগী থাকা উচিত এবং রাজনীতিবিদদের তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত।
রাজনীতিমুক্ত চলচ্চিত্রশিল্প চান জিৎ
অভিনেতার মতে, চলচ্চিত্রশিল্প রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থাকলে বাংলা সিনেমা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকরণ থেকে মুক্ত থাকলে চলচ্চিত্র শিল্প অনেক ভালো জায়গায় অবস্থান করতে পারবে।’
একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের অগ্রগতির সম্পর্ক রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শিল্পক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে তার ইতিবাচক প্রভাব চলচ্চিত্রশিল্পেও পড়বে বলে মন্তব্য করেন জিৎ।
এদিকে জিৎ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ নিয়েও সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন তিনি। ছবিটির পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনীতিকরণের নানা দিক নিয়েও কথা বলেন এই টলিউড তারকা।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রতিবেদকের নাম 




















