এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের এক শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে তার নামে বরাদ্দ করা আবাসিক আসনও বাতিল করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে তার সিট বাতিল ও ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে।
যে ঘটনায় শাস্তি
হল প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষসংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের সঙ্গে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মাহফুজ নীড়কে মারধর করেন এবং তাকে জোর করে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মারধরের ঘটনায় মাহফুজের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের গুরুতর শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে কমিটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই তার আবাসিক আসন বাতিল এবং ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে দাবি করা হলেও সংগঠনটি তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন, মাহফুজ সংগঠনের কোনো সাংগঠনিক সদস্য নন। ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে সাদিক কায়েমকে ভোট দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে তাকে সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনের পর মাহফুজকে সাদিক কায়েমের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের মধ্যে এ বহিষ্কারাদেশের ঘটনা ঘটল। হল প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আবাসিক পরিবেশ বজায় রাখার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















