পাট কাটার কাজ শেষ হতে না হতেই পাবনার চাটমোহরে শুরু হয়েছে রোপা-আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা। টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। পাট কাটার পর জমিতে মই দিয়ে প্রস্তুত করে দ্রুত আমনের চারা রোপণ করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষের কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি মোট আবাদ আরও বাড়তে পারে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমিতে রোপা-আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আধুনিক জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আজির উদ্দিন জানান, বগুড়া অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি তিন বিঘা জমিতে ব্রি ধান-১০৩-এর প্রদর্শনী প্লট করেছেন। পাশাপাশি ব্রি ধান-৮৭ ও বিনা ধান-২০সহ বিভিন্ন জাতের ধান ১১ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামের কৃষক আকতার হোসেন বলেন, তিনি ব্রি ধান-৮৭, ৯০, ৯৫ ও ১০৩-এর পাশাপাশি তেজগোল্ড, জনকরাজ, শক্তি ও সুরভিসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, চলতি মৌসুমে রোপা-আমন চাষের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কৃষকদের সুষমভাবে সার ব্যবহারের পাশাপাশি লাইন পদ্ধতিতে চাষ, ক্ষেতে ডাল পুঁতে পোকা দমন বা পার্চিং এবং পানি সাশ্রয়ী অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে রোপা-আমনের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















