ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কাশফুলের শুভ্রতায় এক বিকেল, ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন এসব জায়গায় বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খোঁজার আগ্রহ হিজবুল্লাহকে ২০ কোটি ডলার সহায়তা ইরানের, পাবে যুদ্ধাহত ৫০ হাজার পরিবার পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেও পেলেন মন্ত্রীর মর্যাদা এসএ টোয়েন্টির নিলামে দল পেলেন না নাহিদ রানা, রিশাদের সঙ্গী আন্তর্জাতিক তারকারা চলে গেলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকার সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ফের বিক্ষোভ, বিরোধীদের কর্মসূচিতে মমতা গম্ভীর অভিনেতা থেকে ‘কন্ট্রোল উদয়’, নানা পাটেকারের যে চরিত্র জয় করেছিল নতুন প্রজন্মের মন ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ, উগ্রপন্থীদের ব্যবহারের দাবি নাকচ মাস্কের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রামপাল থানার ওসির মৃত্যু
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সার সংকটে বোরো ও রবি ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

রবি ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট দেখা দিয়েছে। এক বস্তা সার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও আবার সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারে বুধবার সকালে একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে নারী-পুরুষসহ শতাধিক কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোকান বন্ধ থাকায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। সারের প্রয়োজন থাকায় লাইনে দাঁড়ালেও তখন পর্যন্ত সার পাননি। সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মাদকবিরোধী আন্দোলনে তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডিলারের লোকজনের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল শুনতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, চার বস্তা সারের দাম জমা নেওয়া হলেও দেওয়া হয়েছে দুই বস্তা এবং টাকা জমা দেওয়ার কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার মিজানুর রহমান।

সিংড়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকলেও তা না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি নিতে গেলে কোথাও কোথাও ইউরিয়া নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাঁকে সার না দিয়ে সার দেওয়া হয়েছে বলে দোকান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এলেও দুদিন ঘুরেও তিনি সার পাননি।

আরও পড়ুনঃ  আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, আদালতকক্ষে হট্টগোল

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নেও সার নিয়ে ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলার আবদুর রাজ্জাক কয়েক দিন ধরে সংকটের কথা বলে আসছিলেন। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক তাঁর দোকানের সামনে জড়ো হন।

কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেলে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  গেইলের ১৭৫ পেরিয়ে ইতিহাস প্রিটোরিয়াসের, ২০ বছরেই টি-টোয়েন্টির নতুন রেকর্ড

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজ উপস্থিত হন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ডিলারকে বিভিন্ন ধরনের মোট ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কৃষকরা গোডাউনের দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়ায় রবি ও বোরো মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার বিতরণে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশফুলের শুভ্রতায় এক বিকেল, ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন এসব জায়গায়

সার সংকটে বোরো ও রবি ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ১০:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রবি ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট দেখা দিয়েছে। এক বস্তা সার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও আবার সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের দুর্ব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারে বুধবার সকালে একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে নারী-পুরুষসহ শতাধিক কৃষককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোকান বন্ধ থাকায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। সারের প্রয়োজন থাকায় লাইনে দাঁড়ালেও তখন পর্যন্ত সার পাননি। সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, আদালতকক্ষে হট্টগোল

খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ডিলারের লোকজনের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল শুনতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, চার বস্তা সারের দাম জমা নেওয়া হলেও দেওয়া হয়েছে দুই বস্তা এবং টাকা জমা দেওয়ার কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার মিজানুর রহমান।

সিংড়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকলেও তা না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি নিতে গেলে কোথাও কোথাও ইউরিয়া নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাঁকে সার না দিয়ে সার দেওয়া হয়েছে বলে দোকান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এলেও দুদিন ঘুরেও তিনি সার পাননি।

আরও পড়ুনঃ  দুদকে ৩ উপপরিচালকসহ ১২ কর্মকর্তার পদে রদবদল

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নেও সার নিয়ে ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলার আবদুর রাজ্জাক কয়েক দিন ধরে সংকটের কথা বলে আসছিলেন। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক তাঁর দোকানের সামনে জড়ো হন।

কৃষকের সংখ্যা বেড়ে গেলে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  ২০০৬ সালের মতো ‘নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ চায় বিএনপি: হাসনাত

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজ উপস্থিত হন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট ডিলারকে বিভিন্ন ধরনের মোট ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কৃষকরা গোডাউনের দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সার না পাওয়ায় রবি ও বোরো মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার বিতরণে হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।