২০০৬ সালের মতো একদলীয় নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য বিএনপি নতুন একটি ফর্মুলা সামনে আনতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিরোধীদলীয় এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।
রোববার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওই ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের লক্ষ্যেই বিএনপি নতুন একটি ব্যবস্থা সামনে আনতে পারে। এ ক্ষেত্রে দলটি প্রতারণামূলক নতুন ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে এবং ধর্মীয় কার্ড ব্যবহার করতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যাংক খাত নিয়ে অভিযোগ
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতো বর্তমান বিএনপি সরকারও ব্যাংক খাতকে আবারও অলিগার্ক ও মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার পথে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাংক রেজুলেশনের ১৮(ক) ধারা সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা রুগ্ন শিল্পে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বিএনপিঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ঋণপ্রবাহ কমায় কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
হাসনাত বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। ঋণখেলাপিরা যাতে নতুন করে ঋণ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোটের বিষয়ে বিএনপি দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তার দাবি, এ কারণে দলটি জনগণের আস্থা হারিয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ব্যঙ্গ করে ‘আমরা মামুরা সংশোধন কমিটি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্তাবগুলো পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার কথা
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রী ও সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদে সরকারের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। জুলাই সনদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা জনগণই বিচার করবে।
প্রতিবেদকের নাম 





















