ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের আয়-সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখবে এনবিআর

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

কর ফাঁকি রোধ ও আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে এবার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি মিলিয়ে গাড়ির মালিকানা, ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না তা যাচাই করবেন কর কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কর ফাঁকি শনাক্তে অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরও সক্রিয় করা, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭১৯টি গাড়ির তথ্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ

এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যারা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে বিআরটিএতে নিবন্ধন করলেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোটি টাকার গাড়ি, আয়কর নথিতে তথ্য নেই

সিআইসির পাওয়া অপ্রদর্শিত গাড়ির তালিকায় টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস-রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব যানবাহন আমদানিতে শুল্ক-করও তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুনঃ  মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলার গুজব, আটক ১

কর কর্মকর্তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকার পরও আয়কর নথিতে সেটির তথ্য না থাকলে তাঁর আয় ও সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটিকে সম্ভাব্য কর ফাঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস, আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘোষিত আয়-সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

কর অঞ্চলে যাচাইয়ের নির্দেশ

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  মায়ের পরামর্শেই পিসিবি থেকে দূরে আছেন শোয়েব আখতার

শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিক নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির সমন্বয় বাড়ানো গেলে কর ফাঁকি শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানার তথ্য কাজে লাগিয়ে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের আওতাও বাড়ানো সম্ভব হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের আয়-সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখবে এনবিআর

আপডেটের সময়: ১০:১৮:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কর ফাঁকি রোধ ও আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে এবার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি মিলিয়ে গাড়ির মালিকানা, ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না তা যাচাই করবেন কর কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কর ফাঁকি শনাক্তে অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরও সক্রিয় করা, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭১৯টি গাড়ির তথ্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের আয়কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  তিন মাসের মধ্যে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল চুনকুটিয়ায়

এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যারা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে বিআরটিএতে নিবন্ধন করলেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোটি টাকার গাড়ি, আয়কর নথিতে তথ্য নেই

সিআইসির পাওয়া অপ্রদর্শিত গাড়ির তালিকায় টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস-রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ড রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও সিসি অনুযায়ী এসব যানবাহন আমদানিতে শুল্ক-করও তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুনঃ  তৃতীয় কেমো শেষ, সামিয়ার প্রার্থনা—ক্যানসার যেন আর ফিরে না আসে

কর কর্মকর্তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি থাকার পরও আয়কর নথিতে সেটির তথ্য না থাকলে তাঁর আয় ও সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটিকে সম্ভাব্য কর ফাঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস, আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘোষিত আয়-সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

কর অঞ্চলে যাচাইয়ের নির্দেশ

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলার গুজব, আটক ১

শুধু বিলাসবহুল গাড়ির মালিক নয়, আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির সমন্বয় বাড়ানো গেলে কর ফাঁকি শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানার তথ্য কাজে লাগিয়ে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের আওতাও বাড়ানো সম্ভব হবে।