ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আধুনিক যান যেখানে থামে, যমুনার চরে ছুটে চলে ঘোড়ার গাড়ি

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী বাহন হারিয়ে গেলেও যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখনো মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। বর্ষায় যখন চরাঞ্চল পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। আর শুষ্ক মৌসুমে পানি সরে বালুচর জেগে উঠলে দুর্গম পথে পণ্য ও মানুষ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ঘোড়ার গাড়ি।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শুকনো মৌসুমে শহর ও বাজারের সঙ্গে চরবাসীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এখনো এই বাহন। নৌকায় করে ঘাটে পৌঁছানো চাল, ডাল, তেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘোড়ার গাড়িতে তুলে মাইলের পর মাইল বালুময় পথ পেরিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রত্যন্ত চরগ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  আমু-শাজাহান-ফারুকসহ সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ শিগগির

চরের কৃষিজীবী মানুষের জীবনও অনেকটা নির্ভরশীল এই বাহনের ওপর। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী ও নদীপারের মুদি ব্যবসায়ী শমশের আলী জানান, মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে হাটে পণ্য নেওয়া কিংবা শহর থেকে দোকানের মালামাল আনা—সব ক্ষেত্রেই ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজন হয়।

আকনা দীঘি চরের কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, শহরে বসবাস করলেও প্রয়োজনে চরে এলে ঘোড়ার গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়। কারণ বালুময় দুর্গম পথে ভারী বোঝা মাথায় বা কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নয় দিনের সফরে সেনাপ্রধান

দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন চরাঞ্চলের অনেক মানুষ। ৭০ বছর বয়সী চালক আনছার আলী বহু বছর ধরে এ কাজ করছেন। চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিমও প্রায় এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন।

আব্দুল আলিম জানান, দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ঘোড়ার খাবারের জন্য দৈনিক প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। বাকি আয় দিয়েই পরিবার চালান তিনি। তার মতো শত শত চালকের কাছেও ঘোড়ার গাড়ি শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রকল্পের ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বিপিসি

চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলী মুন্সি বলেন, নদীপাড়ের বালুময় রাস্তায় যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প নেই।

আধুনিক যানবাহনের বিস্তারের মধ্যেও যমুনার চরাঞ্চলে টিকে আছে এই প্রাচীন বাহন। দুর্গম বালুচরে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি শত শত পরিবারের জীবিকার অবলম্বন হয়ে ঘোড়ার গাড়ি এখনো ছুটে চলছে আপন গতিতে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

আধুনিক যান যেখানে থামে, যমুনার চরে ছুটে চলে ঘোড়ার গাড়ি

আপডেটের সময়: ০৫:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী বাহন হারিয়ে গেলেও যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখনো মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। বর্ষায় যখন চরাঞ্চল পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। আর শুষ্ক মৌসুমে পানি সরে বালুচর জেগে উঠলে দুর্গম পথে পণ্য ও মানুষ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ঘোড়ার গাড়ি।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শুকনো মৌসুমে শহর ও বাজারের সঙ্গে চরবাসীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এখনো এই বাহন। নৌকায় করে ঘাটে পৌঁছানো চাল, ডাল, তেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঘোড়ার গাড়িতে তুলে মাইলের পর মাইল বালুময় পথ পেরিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রত্যন্ত চরগ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রকল্পের ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বিপিসি

চরের কৃষিজীবী মানুষের জীবনও অনেকটা নির্ভরশীল এই বাহনের ওপর। মেছড়া গ্রামের হোসেন আলী ও নদীপারের মুদি ব্যবসায়ী শমশের আলী জানান, মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে হাটে পণ্য নেওয়া কিংবা শহর থেকে দোকানের মালামাল আনা—সব ক্ষেত্রেই ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজন হয়।

আকনা দীঘি চরের কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, শহরে বসবাস করলেও প্রয়োজনে চরে এলে ঘোড়ার গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়। কারণ বালুময় দুর্গম পথে ভারী বোঝা মাথায় বা কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  আমু-শাজাহান-ফারুকসহ সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ শিগগির

দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন চরাঞ্চলের অনেক মানুষ। ৭০ বছর বয়সী চালক আনছার আলী বহু বছর ধরে এ কাজ করছেন। চৌহালীর তেগুরি চরের আব্দুল আলিমও প্রায় এক যুগ ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন।

আব্দুল আলিম জানান, দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ঘোড়ার খাবারের জন্য দৈনিক প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। বাকি আয় দিয়েই পরিবার চালান তিনি। তার মতো শত শত চালকের কাছেও ঘোড়ার গাড়ি শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।

আরও পড়ুনঃ  ফতুল্লায় ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনে দগ্ধ দুই মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা তুলে ধরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাত আলী মুন্সি বলেন, নদীপাড়ের বালুময় রাস্তায় যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প নেই।

আধুনিক যানবাহনের বিস্তারের মধ্যেও যমুনার চরাঞ্চলে টিকে আছে এই প্রাচীন বাহন। দুর্গম বালুচরে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি শত শত পরিবারের জীবিকার অবলম্বন হয়ে ঘোড়ার গাড়ি এখনো ছুটে চলছে আপন গতিতে।