নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ পাঁচ ছাত্রীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ বছর বয়সী আতিয়া মারা যায়। এর এক দিন পর বুধবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যায় ১৪ বছর বয়সী জিদনী।
গুরুতর দগ্ধ আরও এক ছাত্রী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। অন্য দুই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আইসিইউতে জিদনীর মৃত্যু
বুধবার সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনীর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরের ৮২ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার একই ঘটনায় মারা যায় আতিয়া। ১১ বছর বয়সী এই ছাত্রীর শরীরের ৪৫ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন (ইমার্জেন্সি) ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, নারায়ণগঞ্জের ওই ঘটনায় মোট পাঁচজন রোগী তাদের ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে আসে।
আরও একজন আইসিইউতে
চিকিৎসকেরা জানান, ১৩ বছর বয়সী লামিয়া গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়া আছিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাদের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সময় মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীরা ছাদে খেলাধুলা করছিল। তাদের কাছে পাতাযুক্ত আখও ছিল। খেলার একপর্যায়ে ওই আখ ১১ হাজার ভোল্টের হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে।
এতে বিকট শব্দে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 















