সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা ও মার্কেট নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
তাহফিজুল কোরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার বিকেলে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে ইমাম হাসানকে প্রধান এবং জাকির হোসেনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেট নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইমাম হাসানের নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা ও মার্কেটে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়।
এ সময় মাদ্রাসার নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. আলতাব হোসেন বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া লকারে থাকা ২০ লাখ টাকা নগদ, প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ল্যাপটপ এবং প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি কম্পিউটার মনিটর লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
মাদ্রাসার উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদ অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও ইমাম হাসানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীরা কম্পিউটার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার সামনে ট্রাস্টের জায়গায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত একটি মার্কেট আগে জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তার দাবি, সৈয়দ সানজিদের সঙ্গে মাদ্রাসাটির কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিলেন। নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং তার ছেলেকে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দাবি করে জাকির বলেন, সানজিদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















