
লন্ডনের হিথ্রোকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে সংযুক্ত বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে তুরস্কের আইজিএ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। বৈশ্বিক ভ্রমণ তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওএজির ২০২৬ সালের ‘মেগাহাবস ইনডেক্স’-এ শীর্ষস্থান দখল করেছে বিমানবন্দরটি।
বিশ্বের বড় বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত সংযোগ এবং সেখান থেকে পৌঁছানো যায় এমন গন্তব্যের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ বছরের ব্যস্ততম দিনের কার্যক্রম হিসেবে ২ আগস্টের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
ওএজির প্রধান বিশ্লেষক জন গ্রান্ট বলেন, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর শেষ পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে বিমানবন্দরটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
২০২৬ সালের তালিকায় ইস্তাম্বুলের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লন্ডনের হিথ্রো। এরপর আমস্টারডাম শিফল, কুয়ালালামপুর ও শিকাগো ওহেয়ার বিমানবন্দর রয়েছে।
২০১৮ সালে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে চালু হয় বিমানবন্দরটি। বর্তমানে বছরে ৮ কোটি ৪০ লাখের বেশি যাত্রী এটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এর বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ২০ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরটির চতুর্থ প্রধান রানওয়ে চালু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ছয়টি প্রধান ও তিনটি রিজার্ভসহ মোট নয়টি রানওয়ে নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন রানওয়েটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী হওয়ায় উড়োজাহাজের ট্যাক্সি ও আকাশপথে সময় কমার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওএজির বিশ্লেষক গ্রান্টের মতে, একই সময়ে তিনটি রানওয়ে ব্যবহারের অনুমোদন থাকা বিশ্বের একমাত্র বিমানবন্দর ইস্তাম্বুল। এতে ব্যস্ত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনায় বাড়তি সক্ষমতা ও নমনীয়তা তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দরটির সংযোগ সক্ষমতার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইনসের। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট এই এয়ারলাইনস পরিচালনা করে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৩০টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক দেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনস হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান রয়েছে।
তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি শহরের বাইরে অবস্থান করায় বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা পরিচালনা করা সম্ভব।
টার্কিশ এয়ারলাইনসের ‘স্টপওভার’ কর্মসূচিও বিমানবন্দরটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। দীর্ঘ ট্রানজিটের যাত্রীরা ইস্তাম্বুলে অবস্থান করে শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পান এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হোটেলে বিনামূল্যে থাকার সুবিধাও পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছর ইস্তাম্বুলের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চীনের বড় বিমানবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ালে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলও স্বাভাবিক হলে ওই অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 























