ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় আজ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় পেছানোর পর এবার ঢাকার আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় এর আগেও কয়েক দফা প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। এরপর আদালত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
তবে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ—ডিবির মাধ্যমে। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি। সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
ডিবির তদন্তে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যের অংশ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁর অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
এখন সবার নজর আজকের আদালত কার্যক্রমের দিকে—অধিকতর তদন্তে সিআইডি কী তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরে, সেটিই হতে যাচ্ছে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রতিবেদকের নাম 

























