
জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় বাসার মূল ফটক বন্ধ থাকা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন ভবনের দারোয়ান বাছির। তার দাবি, রাত ১টার পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও তাজমিনের মা-বাবার কাছে এর চাবি থাকত এবং চাবি না পেলেও বাইরে থেকে ডাক দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে এর আগে তাজমিনের কথিত প্রেমিক রাজু দাবি করেছিলেন যে, গেট বন্ধ থাকায় তিনি ওই বাসায় যাননি।
দারোয়ান বাছির আরও জানান, গেটের পাশেই তার থাকার ঘর ও একটি জানালা রয়েছে এবং গত আট বছরে ওই বাসায় তিনি কোনো খারাপ কিছু দেখেননি। পরিবারের সদস্যরা ভালো মানুষ হলেও তাজমিন ওই বাসায় আসার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করেছে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান বাছির।
এদিকে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির কাছে রাজুকে গ্রেপ্তার করে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে অধিযাচনপত্র পাঠান। তাজমিনের মোবাইল নম্বরের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তার অবস্থান এবং রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে কুমিল্লা ডিবির একটি দল রাজুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে ফেরত দেয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজুকে নেওয়া হয়েছিল এবং যাচাই শেষে তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাজমিনের মা-বাবা রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে তা দিতে পারবেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) অহিদুর রহমান জানান, ডিবির পক্ষ থেকে ফেরত দেওয়ার পর কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ রাজুকে আদালতে সোপর্দ করেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও হোটেলকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমিনকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন রাজু। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ ও বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করে তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। হোটেলের কর্মচারী জানান, পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। নিবন্ধন খাতায় রাজুর দুটি মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে বের হতে দেখা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে তাজমিন কক্সবাজারে যান এবং কুমিল্লায় ফেরার জন্য রাজুই তাকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের টিকিট কেটে দেন। এর আগে গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে গেলেও পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি কক্সবাজারে যান। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন এলাকা থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 























