রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি (VOIP), জিএসএম গেটওয়ে এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।
জব্দ করা হয়েছে
- ১৪টি ল্যাপটপ
- ১৬টি স্মার্টফোন
- ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড
- ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস
- ২৬ বোতল বিদেশি মদ
- নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা
ডিবির দাবি, ঝর্না চাকমা জিয়ানা ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দেন। সেখান থেকেই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি চাকরি, বিশেষ অফার কিংবা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে বার্তা পাঠাত। সেই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার শিকার হতেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে একাধিক সিম স্লট সংযুক্ত করে একই সময়ে ১২টি পর্যন্ত সিম পরিচালনা করা হতো, ফলে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য: কিছু সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে “মাসে ২০০–২৫০ কোটি টাকা পাচার” দাবির উল্লেখ থাকলেও, এ বিষয়ে ডিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের নাম 


























