দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে অপরাধের হারে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহর হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সূচকেও অঞ্চলটির সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা শহরগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজধানী। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নাম্বিও (Numbeo) প্রকাশিত ২০২৬ সালের ক্রাইম অ্যান্ড সেফটি ইনডেক্স-এ উঠে এসেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার ক্রাইম ইনডেক্স ৬২.২, যা দক্ষিণ এশিয়ার সব বড় শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সেফটি ইনডেক্স মাত্র ৩৭.৮, যা অঞ্চলের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে অপরাধের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে ঢাকা সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচক
| শহর | দেশ | অপরাধ সূচক | নিরাপত্তা সূচক |
|---|---|---|---|
| ঢাকা | বাংলাদেশ | ৬২.২ | ৩৭.৮ |
| করাচি | পাকিস্তান | ৫৯.১ | ৪০.৯ |
| দিল্লি | ভারত | ৫৯.১ | ৪০.৯ |
| গাজিয়াবাদ | ভারত | ৫৮.৪ | ৪১.৬ |
| নয়ডা | ভারত | ৫৫.১ | ৪৪.৯ |
| গুরগাঁও | ভারত | ৫৪.১ | ৪৫.৯ |
| ব্যাঙ্গালোর | ভারত | ৫৪.০ | ৪৬.০ |
| রাওয়ালপিন্ডি | পাকিস্তান | ৫১.৬ | ৪৮.৪ |
| কলম্বো | শ্রীলঙ্কা | ৪২.৬ | ৫৭.৪ |
| কাঠমান্ডু | নেপাল | ৩৬.৭ | ৬৩.৩ |
| ইসলামাবাদ | পাকিস্তান | ৩১.৪ | ৬৮.৬ |
| ম্যাঙ্গালোর | ভারত | ২৫.৬ | ৭৪.৪ |
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বেশ কয়েকটি বড় শহরের তুলনায় ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক বেশি নাজুক। এমনকি করাচি ও দিল্লির মতো শহরও নিরাপত্তা সূচকে ঢাকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বৈশ্বিক তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। শহরটির অপরাধ সূচক ১১.১ এবং নিরাপত্তা সূচক ৮৮.৯, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার অন্যতম উদাহরণ।
নাম্বিওর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঢাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ বিশেষ করে রাতের সময় বাইরে চলাচলে অনিরাপদ বোধ করেন। ছিনতাই, চুরি, হয়রানি এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ে উদ্বেগও তুলনামূলক বেশি।
বিশ্বব্যাপী অপরাধপ্রবণ শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা অন্যতম।
বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার মান, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাফিক, আবাসনসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে থাকে নাম্বিও। ২০২৬ সালের এই সূচক ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















