নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড। বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
সোমবার (১০ আগস্ট) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও পরীক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতির প্রতিবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা চত্বরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করা হয়।
পুলিশের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাহুল গান্ধী বলেন, ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা অন্যায়। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে। সমস্যার সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার এবং দ্রুত তাদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীরা ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) ব্যাপক সংস্কারের দাবি করছেন। পাশাপাশি তারা ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকার এর মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (জেএলকেএম) নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহতো নয় দিন ধরে অনশন করছেন। অসুস্থ অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনিও বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন। এ সময় তার হাতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের একটি ছবি দেখা যায়।
মিছিলের পথে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেওয়ার সমালোচনা করে মাহতো বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচারের কারণে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ দমনের অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী নন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার কয়েক দফা আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত অচলাবস্থার অবসান হয়নি। পরিস্থিতি ঘিরে ঝাড়খণ্ডে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রতিবেদকের নাম 




















