সাভার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দিদারুল ইসলাম, যিনি ঢাকা টুডে–এর স্টাফ রিপোর্টার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দায়িত্ব পালনকালে আহত একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলা পরিষদে যান দিদারুল ইসলাম। সেখানে তিনি সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিপরীতে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এসি, ফ্যান ও লাইট চালিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে আর্জেন্টিনা–মিশর বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান—এমন দৃশ্য দেখতে পান। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দিদারুল ইসলামের দাবি, নির্যাতনের পাশাপাশি তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথি মুছে ফেলা হয়। এছাড়া জোর করে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ কয়েকজন সাংবাদিক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সহকর্মীরা তাকে প্রথমে সাভার মডেল থানায় এবং পরে পুলিশের পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন দিদারুল ইসলাম। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















