ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

১৮০ দিনে পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের যত উদ্যোগ

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার ও উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, কারসাজি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করাকে এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলোর একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজার সংস্কারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাজারের দরপতন ঠেকাতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য ঠিক নয়, দাবি মিয়ানমারের

দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় অনেক কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন কমে বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। ধাপে ধাপে বিভিন্ন কোম্পানির ওপর থেকে এটি তুলে নেওয়ার পর সর্বশেষ গত ৯ জুন সব কোম্পানির জন্য ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়।

এর ফলে এখন বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে শেয়ারের দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কারসাজি শনাক্তে এআই নজরদারি

কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী হুইসেল ব্লোয়ারদের সুরক্ষায় পৃথক বিধিমালা তৈরির কাজও এগোচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে তৈরি ৩০ কেজি জিলাপি ধ্বংস

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে ভালো মৌলভিত্তির দেশীয়, বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সংস্কার পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

বাড়বে বন্ড ও সুকুকের বাজার

শুধু শেয়ারনির্ভর না রেখে পুঁজিবাজারকে আরও বহুমুখী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এসব আর্থিক পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা আধুনিক করার কাজ চলছে। বন্ডের বাজার বড় হলে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

আইপিও আবেদন, বন্ড ও সুকুক অনুমোদন এবং বিভিন্ন লাইসেন্সিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুতে হাসপাতালে শ্বেতা তিওয়ারি, চিন্তায় ভক্তরা

একই সঙ্গে বিও হিসাব খোলা, বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানোর পাশাপাশি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার তৈরি করা।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন নীতিমালা বা প্রযুক্তি চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। কারসাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ভালো প্রতিষ্ঠানকে বাজারে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বাস্তবে কতটা সুরক্ষিত করা যায়—তার ওপরই সংস্কারের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

১৮০ দিনে পুঁজিবাজার সংস্কারে সরকারের যত উদ্যোগ

আপডেটের সময়: ০৯:২১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮০ দিনে দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার ও উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, কারসাজি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করাকে এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলোর একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজার সংস্কারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরিয়ে আনতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাজারের দরপতন ঠেকাতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  এসএসসি খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন

দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় অনেক কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন কমে বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। ধাপে ধাপে বিভিন্ন কোম্পানির ওপর থেকে এটি তুলে নেওয়ার পর সর্বশেষ গত ৯ জুন সব কোম্পানির জন্য ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়।

এর ফলে এখন বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে শেয়ারের দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কারসাজি শনাক্তে এআই নজরদারি

কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারী হুইসেল ব্লোয়ারদের সুরক্ষায় পৃথক বিধিমালা তৈরির কাজও এগোচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আগস্টের শেষ সপ্তাহে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন শেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে ভালো মৌলভিত্তির দেশীয়, বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সংস্কার পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

বাড়বে বন্ড ও সুকুকের বাজার

শুধু শেয়ারনির্ভর না রেখে পুঁজিবাজারকে আরও বহুমুখী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড এবং এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এসব আর্থিক পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা আধুনিক করার কাজ চলছে। বন্ডের বাজার বড় হলে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

আইপিও আবেদন, বন্ড ও সুকুক অনুমোদন এবং বিভিন্ন লাইসেন্সিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গুলিতে বদলে গেছে জীবন, চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম জুলাইযোদ্ধা ইমরানের পরিবার

একই সঙ্গে বিও হিসাব খোলা, বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানোর পাশাপাশি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল বাজার তৈরি করা।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নতুন নীতিমালা বা প্রযুক্তি চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। কারসাজির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ভালো প্রতিষ্ঠানকে বাজারে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বাস্তবে কতটা সুরক্ষিত করা যায়—তার ওপরই সংস্কারের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।