ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুর ভাষা বিকাশে কী প্রভাব পড়ে?

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন ও ল্যাপটপের ব্যবহার শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বেড়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে শান্ত রাখা, খাওয়ানো বা ব্যস্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সহায়তা নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের ভাষা শেখা, কথা বলার দক্ষতা এবং সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্ক্রিন টাইম বলতে শিশু প্রতিদিন মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে যে সময় ব্যয় করে, সেটিকে বোঝায়। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ভাষা শেখার জন্য সরাসরি কথোপকথন, চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ এবং পারিবারিক মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিডিও বা কার্টুন দেখে ভাষা শেখার সুযোগ সীমিত, কারণ সেখানে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।

আরও পড়ুনঃ  দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়সী কোনো শিশু যদি প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়, তাহলে একই বয়সী কম স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তার ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা যদি অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানের সঙ্গে তাদের কথোপকথন ও মানসিক যোগাযোগ কমে যায়। ফলে শিশুর ভাষা শেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারের অভিভাবকরা মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুনঃ  সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নয়, সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে শিক্ষামূলক ভিডিও, ছড়া বা গান দেখে এবং একই সঙ্গে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর বা শেখার কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় শিশুকে একা স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখা, খাওয়ানোর সময় বা ঘুমানোর আগে নিয়মিত মোবাইল বা টেলিভিশন দেখানো এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত কথা না বললে ভাষা ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্ক্রিনকে শিশুর একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে অভিভাবকদেরও শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত। স্ক্রিনে যা দেখানো হচ্ছে তা শিশুকে বুঝিয়ে বলা, প্রশ্ন করা, বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে শেখানো এবং একসঙ্গে ছড়া, গান বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে শেখার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।

আরও পড়ুনঃ  এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মো. ফজলুল হক

এ ছাড়া প্রতিদিন কিছু সময় পুরো পরিবারকে স্ক্রিনমুক্ত রাখা, খাবারের সময় মোবাইল বা টেলিভিশন ব্যবহার না করা, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিভাইস বন্ধ রাখা এবং বড়দেরও সন্তানের সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুর ভাষা, চিন্তাশক্তি ও সামাজিক বিকাশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুর ভাষা বিকাশে কী প্রভাব পড়ে?

আপডেটের সময়: ০৫:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন ও ল্যাপটপের ব্যবহার শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বেড়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে শান্ত রাখা, খাওয়ানো বা ব্যস্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সহায়তা নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের ভাষা শেখা, কথা বলার দক্ষতা এবং সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্ক্রিন টাইম বলতে শিশু প্রতিদিন মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে যে সময় ব্যয় করে, সেটিকে বোঝায়। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ভাষা শেখার জন্য সরাসরি কথোপকথন, চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ এবং পারিবারিক মিথস্ক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিডিও বা কার্টুন দেখে ভাষা শেখার সুযোগ সীমিত, কারণ সেখানে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।

আরও পড়ুনঃ  প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়সী কোনো শিশু যদি প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়, তাহলে একই বয়সী কম স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তার ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা যদি অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানের সঙ্গে তাদের কথোপকথন ও মানসিক যোগাযোগ কমে যায়। ফলে শিশুর ভাষা শেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারের অভিভাবকরা মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুনঃ  এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মো. ফজলুল হক

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নয়, সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে শিক্ষামূলক ভিডিও, ছড়া বা গান দেখে এবং একই সঙ্গে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর বা শেখার কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় শিশুকে একা স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখা, খাওয়ানোর সময় বা ঘুমানোর আগে নিয়মিত মোবাইল বা টেলিভিশন দেখানো এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত কথা না বললে ভাষা ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্ক্রিনকে শিশুর একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে অভিভাবকদেরও শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত। স্ক্রিনে যা দেখানো হচ্ছে তা শিশুকে বুঝিয়ে বলা, প্রশ্ন করা, বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে শেখানো এবং একসঙ্গে ছড়া, গান বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে শেখার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।

আরও পড়ুনঃ  বেনজীরের জামিন বাতিলে উদ্যোগ সরকারের

এ ছাড়া প্রতিদিন কিছু সময় পুরো পরিবারকে স্ক্রিনমুক্ত রাখা, খাবারের সময় মোবাইল বা টেলিভিশন ব্যবহার না করা, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিভাইস বন্ধ রাখা এবং বড়দেরও সন্তানের সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুর ভাষা, চিন্তাশক্তি ও সামাজিক বিকাশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।