ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জামায়াতকে নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছিল: ডা. শফিকুর রহমান পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ বাঁশখালীতে মৎস্যঘের দখল নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ১ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত রাজধানীর পাশে কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির কারখানায় র‌্যাবের অভিযান, আটক ৪ ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে বাংলাদেশের গ্রুপেই খেলবে নেপাল ধান রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু জুলাইয়ের অর্জন ১৮ কোটি মানুষের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: জামায়াত আমির পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ৩৪ শ্রমিক ১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অপ্রমাণিত তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন

 

অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে কার্যকর নয়—এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে।

যে কারণে আদালতে গড়ায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হলে স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

এরপর স্বামী নতুন করে একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে।

ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধু নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে পূর্বে দেওয়া চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না।

আদালতের ভাষ্য, কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব তা বাস্তবায়ন করা।

অপ্রমাণিত তালাকের কোনো আইনগত মূল্য নেই

হাইকোর্ট আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর হয়নি—এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

এ ধরনের তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং দেনমোহর বা ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

নাবালক সন্তানের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

আরও পড়ুনঃ  বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

হাইকোর্ট বলেন, সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, একজন পিতা শুধু তালাকসংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

ফ্যামিলি কোর্টই একমাত্র কর্তৃপক্ষ

রায়ে আদালত পুনর্ব্যক্ত করেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।

এ ছাড়া এক্সিকিউশন কোর্ট নতুন করে তালাক বৈধ কি না বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাদের কাজ কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা।

নতুন তালাকের সুযোগ থাকলেও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

আদালত বলেন, যদি পূর্বের দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ: পেপাল–পেওনিয়ার–স্ট্রাইপের সঙ্গে অংশীদারত্বের পথ খুলল

তবে এতে পূর্বে দেওয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ

রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্বামীকে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ এবং দেনমোহরের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের গুরুত্ব

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় পারিবারিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে তিনটি বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে—

  • আইনসম্মতভাবে প্রমাণিত না হলে তালাক কার্যকর বলে গণ্য হবে না।
  • নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন ও অখণ্ড আইনগত অধিকার।
  • নতুন মামলা দায়ের করে চূড়ান্ত আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

রায়ের ফলে নারী ও শিশুর আইনগত অধিকার সুরক্ষা এবং পারিবারিক আদালতের রায়ের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জামায়াতকে নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছিল: ডা. শফিকুর রহমান

অপ্রমাণিত তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

আপডেটের সময়: ১১:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে কার্যকর নয়—এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে।

যে কারণে আদালতে গড়ায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হলে স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ: পেপাল–পেওনিয়ার–স্ট্রাইপের সঙ্গে অংশীদারত্বের পথ খুলল

এরপর স্বামী নতুন করে একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে।

ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধু নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে পূর্বে দেওয়া চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না।

আদালতের ভাষ্য, কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব তা বাস্তবায়ন করা।

অপ্রমাণিত তালাকের কোনো আইনগত মূল্য নেই

হাইকোর্ট আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর হয়নি—এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

এ ধরনের তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং দেনমোহর বা ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

নাবালক সন্তানের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

আরও পড়ুনঃ  আগামী সপ্তাহেই স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

হাইকোর্ট বলেন, সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, একজন পিতা শুধু তালাকসংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

ফ্যামিলি কোর্টই একমাত্র কর্তৃপক্ষ

রায়ে আদালত পুনর্ব্যক্ত করেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।

এ ছাড়া এক্সিকিউশন কোর্ট নতুন করে তালাক বৈধ কি না বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাদের কাজ কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা।

নতুন তালাকের সুযোগ থাকলেও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

আদালত বলেন, যদি পূর্বের দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল ঘোষণা

তবে এতে পূর্বে দেওয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ

রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্বামীকে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ এবং দেনমোহরের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের গুরুত্ব

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় পারিবারিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে তিনটি বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে—

  • আইনসম্মতভাবে প্রমাণিত না হলে তালাক কার্যকর বলে গণ্য হবে না।
  • নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন ও অখণ্ড আইনগত অধিকার।
  • নতুন মামলা দায়ের করে চূড়ান্ত আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

রায়ের ফলে নারী ও শিশুর আইনগত অধিকার সুরক্ষা এবং পারিবারিক আদালতের রায়ের কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।