রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের ফলে ঢাকার পরিবেশ দূষণ কিছুটা কমলেও নতুন করে গুরুতর পরিবেশগত চাপে পড়েছে ধলেশ্বরী নদী। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) পরিচালিত এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী ধলেশ্বরী নদীর পানি কালো ও দূষিত হয়ে পড়েছে। নদীতে দুর্গন্ধ বেড়েছে, জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমেছে এবং আশপাশের এলাকায় বায়ু দূষণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করা হলেও এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়। নকশাগত সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বর্জ্য প্রবাহ, অতিরিক্ত রাসায়নিক ও পানি ব্যবহার, কঠিন বর্জ্য শোধনাগারে প্রবেশ, বিদ্যুৎ সংকট, দুর্বল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবলের অভাবে বর্জ্য শোধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি ২০০৩ সালে প্রায় ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন পেলেও একাধিক সংশোধনের পর ২০২১ সালে প্রকল্পটি শেষ হয়। এ সময় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকালও বেড়ে যায় প্রায় ১৮ বছর ৬ মাসে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, নর্দমা শোধনাগার, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি শোধনাগার, অগ্নি নির্বাপণ কেন্দ্র ও প্রশাসনিক ভবনসহ অতিরিক্ত অবকাঠামো যুক্ত করতে হওয়ায় সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক বারবার পরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে।
আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর পানির দূষণের মাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবেশগত মানদণ্ড অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনে অধিকাংশ ট্যানারি এখনো ব্যর্থ।
প্রতিবেদনে ট্যানারি শিল্পে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি, অবৈধ আড়ত, মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা, কাঁচা চামড়ার বাজারে অস্বচ্ছতা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু না হওয়া, রেন্টাল নীতিমালার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কিছু অবকাঠামোর অপূর্ণ ব্যবহারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্লাজ ডাম্পিং ইয়ার্ড ও ক্রোম বর্জ্যের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমইডি।
সমীক্ষা অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে, যা রপ্তানি বাজার সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আইএমইডি আরও জানিয়েছে, ধলেশ্বরী নদীর পানিতে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য বড় হুমকি। সিইটিপি কিছু দূষণ সূচক কমাতে সক্ষম হলেও পরিবেশগত মান পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে বাইপাস ড্রেন দিয়ে অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদকের নাম 




















