ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা দাবি আফরোজা আব্বাসের দাবি আন্দোলনে রাজপথে থাকা নারীদের মূল্যায়ন ছয় মাসে সরকারি খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩২ শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী ফ্রান্সে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৪৪; তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারে যা রাখবেন, এড়িয়ে চলবেন যা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী

 

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান রুমীকে হারানোর বেদনা বুকে ধারণ করে ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন যিনি, সেই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আজ (২৬ জুন) ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘জুড়ূ’। বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা সৈয়দা হামিদা বেগম।

বাবার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে শৈশবে তৎকালীন পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পান তিনি। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ  বখাটের উৎপাতের প্রতিবাদে নরসিংদীতে শিক্ষার্থীদের ২ কিলোমিটার পদযাত্রা

শিক্ষকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর দেশে ফিরে আবারও শিক্ষকতায় যুক্ত হন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনে নিয়ে আসে গভীর শোকের অধ্যায়। বড় ছেলে শহীদুল ইসলাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামী প্রকৌশলী শরীফ ইমামও মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা তাঁকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে সম্মান জানান। এরপর থেকেই তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে সমগ্র জাতির কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বৃথা হতে দেওয়া যাবে না, তরুণদের প্রতি ফজলুর রহমানের আহ্বান

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দিনলিপির ভিত্তিতে রচিত তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, জীবন মৃত্যু, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইন, ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস এবং প্রবাসের দিনলিপি

আরও পড়ুনঃ  জামিনে মুক্ত বিদিশা সিদ্দিক, কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হলেন

স্বাধীনতার পর দেশে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ১৯৯২ সালে তিনি ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করে।

জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাহানারা ইমাম। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেটের সময়: ১২:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

 

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তান রুমীকে হারানোর বেদনা বুকে ধারণ করে ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন যিনি, সেই শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আজ (২৬ জুন) ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাহানারা ইমাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘জুড়ূ’। বাবা সৈয়দ আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা সৈয়দা হামিদা বেগম।

বাবার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে শৈশবে তৎকালীন পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পান তিনি। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ  শুভশ্রীর ‘এমনি’ ক্যাপশন ঘিরে দেব-ভক্তদের কৌতূহল

শিক্ষকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর দেশে ফিরে আবারও শিক্ষকতায় যুক্ত হন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনে নিয়ে আসে গভীর শোকের অধ্যায়। বড় ছেলে শহীদুল ইসলাম রুমী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একই সময়ে অসুস্থ স্বামী প্রকৌশলী শরীফ ইমামও মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতার পর রুমীর সহযোদ্ধারা তাঁকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে সম্মান জানান। এরপর থেকেই তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে সমগ্র জাতির কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ, শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় অফিস ছাড়লেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দিনলিপির ভিত্তিতে রচিত তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, জীবন মৃত্যু, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইন, ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস এবং প্রবাসের দিনলিপি

আরও পড়ুনঃ  সাক্কারায় ৪৩০০ বছরের পুরোনো সমাধির সন্ধান, মিলল প্রাচীন মিসরের নতুন তথ্য

স্বাধীনতার পর দেশে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ১৯৯২ সালে তিনি ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত গণআদালত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করে।

জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাহানারা ইমাম। পরে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে।