ইসলামে কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মানুষ বাহ্যিকভাবে যত ভালো কাজই করুন না কেন, তার উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন না হয়ে লোকদেখানো বা পার্থিব স্বার্থ হাসিল করা হয়, তাহলে সেই আমলের মূল্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিপরীতে, আন্তরিকভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা ছোট আমলও মর্যাদা পেতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, মানুষের অন্তরে যা গোপন বা প্রকাশ্য—সবই তিনি জানেন। আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর অজানা নয়। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি তার অন্তরের উদ্দেশ্যও আল্লাহর কাছে স্পষ্ট।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক অবয়ব বা সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি মানুষের অন্তর ও আমলের দিকে দৃষ্টি দেন। তাই কোনো কাজের বাহ্যিক রূপের চেয়ে তা কোন উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সহিহ বুখারির বিখ্যাত হাদিসে এসেছে, ‘কাজ নিয়ত অনুযায়ী’ এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। হিজরতের উদাহরণ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বুঝিয়েছেন, কারও হিজরত যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে দুনিয়াবি কোনো লাভ বা বিয়ের উদ্দেশ্যে হয়, তবে সে তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিদান পাবে।
জিহাদের ক্ষেত্রেও নিয়তের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক ব্যক্তি সম্পদ অর্জনের জন্য, আরেকজন খ্যাতি পাওয়ার জন্য এবং অন্যজন বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধে অংশ নিলে—তাদের মধ্যে আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী সে-ই, যার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা।
হাদিসে আরও সতর্ক করা হয়েছে, লোকদেখানো মানসিকতা ও পার্থিব লাভের উদ্দেশ্যে কোনো নেক কাজ করলে পরকালে তার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। এমনকি শহীদ, আলেম কিংবা দানশীল ব্যক্তিও যদি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমল করেন, তাহলে সেই আমল তাদের জন্য মুক্তির কারণ নাও হতে পারে।
এ কারণে প্রতিটি ইবাদত ও নেক কাজের আগে নিজের উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি। মানুষকে দেখানো, প্রশংসা পাওয়া কিংবা কোনো পার্থিব সুবিধা অর্জনের পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই আমলের মূল লক্ষ্য করা উচিত। খাঁটি নিয়ত আমলকে অর্থবহ করে এবং মুমিনকে রিয়া বা লোকদেখানো মানসিকতা থেকে দূরে রাখে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শুদ্ধ নিয়তে নেক আমল করার এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রতিবেদকের নাম 




















