টানা কয়েক দিনের বন্যার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সাতকানিয়া–বাঁশখালী সড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও পানিমুক্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার সত্যপীরের দরগা এলাকায় এখনও পানি থাকায় সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচল করছে।
উপজেলার সোনাকানিয়া, ছদাহা, মাদার্শা, কেঁওচিয়া, কাঞ্চনা, আমিলাইশ ইউনিয়ন এবং সাতকানিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি কিছুটা কমেছে। তবে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত। অনেক পরিবার ঘরে ফিরতে না পেরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, কিছু এলাকায় পানি কমলেও অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো জলাবদ্ধ। মানুষ ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে শুরু করলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো পুরোপুরি ফিরেনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আরও ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশা, নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বসতঘর ও কৃষিজমি পুনর্বাসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবেদকের নাম 




















