কুড়িগ্রামের ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুপেয় পানি সরবরাহে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
সীমান্তে ২৭৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়—এই তিন রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা জেলা। ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে রয়েছে ৩৫টি বিওপি (বর্ডার পর্যবেক্ষণ চৌকি)।
সীমান্তে নিরাপত্তা ও টহল ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি যোগাযোগ সুবিধা বাড়াতে পুরো সীমান্ত এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চরাঞ্চলের উন্নয়নে অগ্রাধিকার
কুড়িগ্রামের নদীবেষ্টিত প্রায় সাড়ে চার শ চরের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দারিদ্র্য বিমোচন এবং তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মীর শাহে আলম। তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সুপেয় পানির জন্য ১০০ কোটি টাকা
জেলাজুড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৫০ কোটি টাকা এবং নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জন্য আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।
যৌথ সভায় কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















