দিনভর পড়াশোনা, চাকরি, কাজ আর নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার পর রাত নামলেই যেন অনেক তরুণের কাছে শুরু হয় নিজের জন্য কিছুটা সময়। চারপাশ যখন ঘুমে ডুবে যায়, তখনই কেউ স্মার্টফোনে ডুবে থাকেন, কেউ অপেক্ষা করেন একটি ফোনকল বা বার্তার, আবার কারও ঘুম কেড়ে নেয় মনের অস্থিরতা।
মনোবিজ্ঞানে এই অভ্যাসকে ‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, দিনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিগত সময়টুকু ফিরে পেতে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া।
রাতের নীরবতায় দিনের চাপা আবেগগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা কারও একটি মেসেজের অপেক্ষা—এসবই অনেকের মনে অস্থিরতা তৈরি করে।
মনোবিজ্ঞানে একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকাকে ‘রুমিনেশন’ বলা হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নেতিবাচক চিন্তার পুনরাবৃত্তি ও ঘুমের সমস্যার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে।
অনেক সময় রাত জাগার পেছনে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, থাকে আবেগও। কেউ পুরোনো বার্তা পড়েন, কেউ প্রিয় মানুষের শেষ ‘অনলাইন’ সময়টি দেখেন, আবার কেউ জানেন উত্তর আর আসবে না—তবুও অভ্যাসবশত ফোন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করেন।
এদিকে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোন ব্যবহারও রাত জাগার অন্যতম কারণ। ‘আর পাঁচ মিনিট’ ভেবে শুরু হওয়া ফেসবুক, ইউটিউব শর্টস বা টিকটক স্ক্রলিং কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।
আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের সাবেক সভাপতি ড. জেমস রাওলির মতে, ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো উচিত। বিশেষ করে মানসিক চাপ তৈরি করে এমন কনটেন্ট ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ঘুম নিশ্চিত করতে রাতে নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকা, নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা জরুরি। কারণ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদকের নাম 


























