ভোলার লালমোহনে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে ভুলবশত ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি খালে পড়ে যায়। এতে মরদেহের এক স্বজন ও এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আয়েশা বেগম (৫০) লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদ ইউনিয়নের সালাউদ্দিনের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ভেবে গ্যাস ট্যাবলেট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে আয়েশা বেগম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় মেয়ে জানান, সকালে তাঁর মা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ মনে করে ভুলবশত ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মরদেহ নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স খালে
আয়েশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ভোলার দিকে রওনা দেয়।
কেরামতগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশের একটি খালে পড়ে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মরদেহের এক স্বজন ও এক পুলিশ সদস্য পানিতে পড়ে আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। পরে বোরহানউদ্দিন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে।
বোরহানউদ্দিন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত লিডার খোরশেদ আলম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ও স্বজনদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















