সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স এই মহাপরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। সিউলের বাইরে শিল্পায়ন সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক এআই বাজারে নেতৃত্ব অর্জনই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির নতুন অধ্যায়
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এই উদ্যোগকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ‘মহা-উত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,
“অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলোর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।”
যেসব খাতে হবে বিনিয়োগ
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো—
- সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) উৎপাদন
- ফিজিক্যাল এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন
- আধুনিক ও শক্তিশালী ডেটা সেন্টার নির্মাণ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি নতুন চিপ উৎপাদন কারখানা স্থাপনে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
এ ছাড়া চিপ প্যাকেজিং ক্লাস্টার, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে আরও কয়েক ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল?
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান জানান, বিশ্বব্যাপী চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান শিল্পাঞ্চলগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডায়নামিক র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি (DRAM) উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে।
রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে
তবে এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে প্রকল্পের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ, সর্বশেষ নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছিলেন।
এদিকে জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান রিয়েলমিটার–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা টানা ছয় সপ্তাহ ধরে কমে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বড় বিনিয়োগ ঘোষণাকে অনেক বিশ্লেষক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও প্রযুক্তি, চিপ উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদকের নাম 





















