জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) টোকিওতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৯০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুনমা প্রিফেকচারের তাকাসাকিতে জন্মগ্রহণ করেন ইয়াসুও ফুকুদা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে তাঁর বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকুদার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পদত্যাগ করলে ৭১ বছর বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন ফুকুদা। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও একই বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলে উভয়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র নজির এটি।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন ইয়াসুও ফুকুদা। চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে সফর বিনিময় এবং পূর্ব চীন সাগরে গ্যাসক্ষেত্র যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়ে সমঝোতার মতো উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০০৮ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। ওই সম্মেলনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সংসদে বিরোধীদের বাধার মুখে তাঁর সরকার নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেন ফুকুদা। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন তিনি।
শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী
ফুকুদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা বিভিন্ন কঠিন সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তাকাইচি আরও বলেন, জাপানের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মর্যাদা বাড়াতে ফুকুদার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 
























