ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা দাবি আফরোজা আব্বাসের দাবি আন্দোলনে রাজপথে থাকা নারীদের মূল্যায়ন ছয় মাসে সরকারি খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩২ শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী ফ্রান্সে ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত ৪৪; তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারে যা রাখবেন, এড়িয়ে চলবেন যা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এক মাসের হিসাবে এই ব্যয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে মোট ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

মোট আমদানির এক-পঞ্চমাংশের বেশি জ্বালানিতে

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশে মোট পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬৭৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যয় ৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে শুধু জ্বালানি তেল আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থাৎ মোট আমদানি ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশের বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিনিদের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৭৫ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে চলতি জুলাইয়ে এই ব্যয় বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বড় উল্লম্ফন

আমদানির ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিশোধিত তরল জ্বালানি বা পিওএল—যার মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল, ইঞ্জিন অয়েল ও গ্রিজ রয়েছে—আমদানিতে জুলাইয়ে ব্যয় হয়েছে ১৩৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

আগের অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় পিওএল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৯৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় কমেছে ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

আরও পড়ুনঃ  নিখোঁজের দুই দিন পর মাটির নিচে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ, আটক ১

গত অর্থবছরেও ভেঙেছিল আমদানির রেকর্ড

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আমদানি ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়ছে আমদানির পরিমাণও

অর্থের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হয়। এর বড় অংশই ছিল সরাসরি ব্যবহারযোগ্য পরিশোধিত জ্বালানি।

আরও পড়ুনঃ  বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত দ্বীপ দখল, নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি হুথিদের

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রিজার্ভে স্বস্তি, আমদানি ব্যয়ে বড় চাপ

জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে এই চাপ সামাল দিতে সহায়তা করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের দায় পরিশোধের পরও এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসের বেশি সময়ের সামগ্রিক আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় এটিকে সন্তোষজনক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দুর্নীতি-অনিয়ম প্রমাণ হলে দায়িত্ব ছাড়ব: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

আপডেটের সময়: ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এক মাসের হিসাবে এই ব্যয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে মোট ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

মোট আমদানির এক-পঞ্চমাংশের বেশি জ্বালানিতে

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশে মোট পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬৭৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যয় ৮ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে শুধু জ্বালানি তেল আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থাৎ মোট আমদানি ব্যয়ের এক-পঞ্চমাংশের বেশি।

আরও পড়ুনঃ  বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত দ্বীপ দখল, নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি হুথিদের

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৭৫ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে চলতি জুলাইয়ে এই ব্যয় বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বড় উল্লম্ফন

আমদানির ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিশোধিত তরল জ্বালানি বা পিওএল—যার মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল, ইঞ্জিন অয়েল ও গ্রিজ রয়েছে—আমদানিতে জুলাইয়ে ব্যয় হয়েছে ১৩৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

আগের অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় পিওএল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৯৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।

অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় কমেছে ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ। জুলাইয়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, এনসিপি নেত্রী কারাগারে

গত অর্থবছরেও ভেঙেছিল আমদানির রেকর্ড

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আমদানি ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়ছে আমদানির পরিমাণও

অর্থের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি আমদানি করা হয়। এর বড় অংশই ছিল সরাসরি ব্যবহারযোগ্য পরিশোধিত জ্বালানি।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক, সমাধানে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রিজার্ভে স্বস্তি, আমদানি ব্যয়ে বড় চাপ

জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে এই চাপ সামাল দিতে সহায়তা করছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের দায় পরিশোধের পরও এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে চার মাসের বেশি সময়ের সামগ্রিক আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় এটিকে সন্তোষজনক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।