জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে বিভিন্ন মেয়াদে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে রাতারাতি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দুটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) রয়েছে। এর একটি মোংলায় স্থাপন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ তিন বিভাগের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। এ লক্ষ্যে আকরাম পয়েন্টসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নাব্যতা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। এফএসআরইউ স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একটি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করবে। এতে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা সবসময় ১২ মিটার রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এতে বড় জাহাজ ও মাদার ভেসেল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের অবদান প্রায় ৫-৬ শতাংশ। পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে এই অবদান ৩০-৩৫ শতাংশে নেওয়া সম্ভব।
সাংবাদিকতার মান নিয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান
সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন বিচ্যুতি রয়েছে, সাংবাদিকদের মধ্যেও কিছু বিচ্যুতি দেখা গেছে। এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সাংবাদিকদের প্রকৃত উন্নয়ন অর্থ-বিত্ত বা সম্পদে নয়, বরং মনন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়। ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন অর্থে, প্রযুক্তির উন্নয়ন বিজ্ঞানে এবং সাংবাদিকদের উন্নয়ন অনুসন্ধানের মাধ্যমে হয়।
বাগেরহাটের সড়ক উন্নয়ন
বাগেরহাটের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। জনগণের উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এর আগে দুপুরে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় দশানী-রামপাল-মোংলা জেলা মহাসড়কের দশানী থেকে গিলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
জানা গেছে, বাগেরহাট-দশানী-রামপাল-মোংলা ৩৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ চারটি প্যাকেজে ২০২১ সালে শুরু হয়। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দশানী থেকে গিলাতলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে পুরোনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।
মাফুজ খান লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই অংশের কাজ করছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।
প্রতিবেদকের নাম 




















