সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থী তানজিলা ইয়াসমিন দীপার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনের সড়কে ‘আজিজুল হক কলেজ পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন দীপার সহপাঠী, বিভাগের শিক্ষক এবং স্বজনরা।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের পক্ষে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতের বড় বোন সাবিনা ইসলাম বলেন, সর্বশেষ কোরবানির ঈদের সময় দীপার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন দীপা জানিয়েছিলেন, তিনি রংপুরে চাকরি করছেন। দ্বিতীয় বিয়ে করে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকায় বসবাস করছেন—এ বিষয়টি পরিবার জানত না।
তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ দেখতে গিয়ে তারা দীপার হাতের রগে কাটার চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তানজিলা ইয়াসমিন দীপা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল হক চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ, সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সহপাঠী সাব্বির সাদিক, নিহতের বাবা খয়বর আলী, মা মাহফুজা বেগম, বড় বোন সাবিনা ইসলাম, সাত বছর বয়সী কন্যা আনিশা তাসনীম অরিণ, আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের নেতা আতিকুল ইসলাম বিপ্লব, রাফিউল হাসানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বগুড়া মহানগরের মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তানজিলা ইয়াসমিন দীপার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
দীপা বগুড়া শহরের নারুলী আনন্দপাড়া এলাকার খয়বর আলীর মেয়ে। তার আগের সংসারের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্বামী আবিদুর রহমানের সঙ্গে তিনি মালগ্রাম কলেজপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ওই বাসার পাশের কক্ষেও একজন শিক্ষার্থী সাবলেট হিসেবে থাকতেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















