
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এতে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন জেলার দায়িত্বে কে
ঢাকা বিভাগ
- সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু — ঢাকা
- হাবিবুর রশিদ — গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ
- সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল — মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ
- মো. শরীফুল আলম — টাঙ্গাইল ও নরসিংদী
- শামা ওবায়েদ ইসলাম — মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
- মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ — রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ
ময়মনসিংহ বিভাগ
- ইয়াসের খান চৌধুরী — জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ
- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত — শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
চট্টগ্রাম বিভাগ
- মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী — চট্টগ্রাম
- আব্দুল আউয়াল মিন্টু — লক্ষ্মীপুর
- জাকারিয়া তাহের — ফেনী ও নোয়াখালী
- সাচিং প্রু — কক্সবাজার
- মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন — খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
- এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) — ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর
রাজশাহী বিভাগ
- ইকবাল হাসান মাহমুদ — রাজশাহী ও নাটোর
- আব্দুল বারী — বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ফারজানা শারমিন — সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
- মোহাম্মদ শামীম কায়সার — জয়পুরহাট ও নওগাঁ
রংপুর বিভাগ
- ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন — লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়
- আসাদুল হাবিব দুলু — ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
- মীর শাহে আলম — রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম
সিলেট বিভাগ
- খন্দকার আবদুল মুক্তাদির — হবিগঞ্জ
- আরিফুল হক চৌধুরী — মৌলভীবাজার
- আলহাজ মো. জি কে গউস — সিলেট ও সুনামগঞ্জ
খুলনা বিভাগ
- নিতাই রায় চৌধুরী — চুয়াডাঙ্গা
- মো. আসাদুজ্জামান — খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট
- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত — মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
- শেখ ফরিদুল ইসলাম — যশোর, মাগুরা ও নড়াইল
বরিশাল বিভাগ
- মো. রাজীব আহসান — বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর
- আহমেদ সোহেল মঞ্জুর — বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
দায়িত্বপ্রাপ্তদের মূল কার্যপরিধি
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।
তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—
১. মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে পরামর্শ দেওয়া।
২. জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও তদারকি করা।
৩. সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন তদারকি করা।
৫. প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সরকারি সভা ও সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারকি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















