চাকরি শেষে অবসরে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর সেই অর্থ স্ত্রী, সন্তান নাকি অন্য কোনো স্বজন পাবেন—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার পেনশনের অর্থ কে পাবেন, সেটি নির্ভর করে পেনশনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালার ওপর।
শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেনশনের অর্থকে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সাধারণ সম্পত্তি বা উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এটি অনেক ক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি সুবিধা বা অনুদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই পেনশন সংক্রান্ত সরকারি বিধিমালায় যাকে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সাধারণত তিনিই নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের অর্থ পাবেন।
উত্তরাধিকার সম্পদের সঙ্গে পেনশনের পার্থক্য
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ নির্ধারিত নিয়মে স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও অন্যান্য বৈধ ওয়ারিশের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
তবে সরকারি পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে একই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তার মতে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া পেনশন সুবিধাকে একই ধরনের অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
নমিনি বা ফ্যামিলি পেনশনের বিষয়
সরকারি বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নমিনি কিংবা ফ্যামিলি পেনশন পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণত সেই ব্যক্তিই পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
অর্থাৎ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু তিনি কার স্ত্রী, সন্তান বা আত্মীয়—এটি দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বরং পেনশনের ধরন, সরকারি নীতিমালা এবং ফ্যামিলি পেনশনের যোগ্যতা বিবেচনা করতে হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যের মূলকথা হলো—মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি এবং মৃত্যুর পর সরকার থেকে পাওয়া পেনশন সুবিধা এক বিষয় নয়। কোন ব্যক্তি পেনশন পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও সুবিধার প্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























