ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী রিধিকার মরদেহ উদ্ধার অশোভন আচরণের অভিযোগে পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনাইয়ের সুলতান খারগ দ্বীপে আবারও ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তুলছে ইরান ইমাম-মুয়াজ্জিন-সেবায়েতদের সম্মানি বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ, শ্রীপুরে সিএনজি চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী হরমুজ ঘিরে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ পশ্চিম তীরে সেটেলার সহিংসতা বাড়ছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদের অভিযোগ অ্যামনেস্টির আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শুধু কাবিননামায় সই নয়, বিয়ের বৈধতার জন্য প্রয়োজন ইজাব-কবুল

কাজী অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, কাবিননামায় সই করার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন বৈধ হয়ে যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

ইসলামি আলেমদের মতে, শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না। কাবিননামা মূলত বিয়ের নিবন্ধন ও প্রমাণপত্র; এটি নিজে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করে না।

বিয়ে সহিহ হওয়ার মূল শর্ত কী?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ

সাধারণভাবে প্রচলিত ফিকহি বিধান অনুযায়ী, এ সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হয়। হানাফি ফিকহে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিয়ের আকদ সংঘটিত হয়।

অর্থাৎ, শুধু কাগজে স্বাক্ষর নয়—সাক্ষীদের উপস্থিতিতে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল হওয়াই বিয়ের মূল বিষয়।

শুধু সই করলে কী হবে?

যদি কাবিননামায় স্বাক্ষর করা হলেও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে শরিয়তসম্মতভাবে ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়, তাহলে শুধু ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে না—এমনটাই উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ফিকহি মতের আলেমরা।

আরও পড়ুনঃ  ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ঠিক করতে আজ চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

এ অবস্থায় বৈধভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য শরিয়তের নিয়ম মেনে নতুন করে আকদ সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন করে বিয়ে করতে যা প্রয়োজন

বৈধভাবে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করতে সাধারণভাবে—

  1. মহর নির্ধারণ করতে হবে;
  2. প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে;
  3. পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ  রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমে জেগে উঠুক হৃদয়, সুন্নাহয় সাজুক জীবন

শরিয়তসম্মতভাবে নতুন আকদ সম্পন্ন হলে তখন থেকেই বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ হবে।

কাবিননামার গুরুত্ব কী?

কাবিননামা বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ও প্রমাণপত্র। ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মহরসহ বিভিন্ন অধিকার ও দায়িত্বের বিষয় প্রমাণে এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করাই বিয়ের একমাত্র ভিত্তি নয়।

তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার ওপর নির্ভর না করে শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল ও প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদীর, আল-বাহরুর রায়েক, মাজমাউল আনহুর, রদ্দুল মুহতার ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

শুধু কাবিননামায় সই নয়, বিয়ের বৈধতার জন্য প্রয়োজন ইজাব-কবুল

আপডেটের সময়: ০৫:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কাজী অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। আবার কেউ মনে করেন, কাবিননামায় সই করার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন বৈধ হয়ে যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

ইসলামি আলেমদের মতে, শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না। কাবিননামা মূলত বিয়ের নিবন্ধন ও প্রমাণপত্র; এটি নিজে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করে না।

বিয়ে সহিহ হওয়ার মূল শর্ত কী?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ঠিক করতে আজ চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

সাধারণভাবে প্রচলিত ফিকহি বিধান অনুযায়ী, এ সময় প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হয়। হানাফি ফিকহে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিয়ের আকদ সংঘটিত হয়।

অর্থাৎ, শুধু কাগজে স্বাক্ষর নয়—সাক্ষীদের উপস্থিতিতে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল হওয়াই বিয়ের মূল বিষয়।

শুধু সই করলে কী হবে?

যদি কাবিননামায় স্বাক্ষর করা হলেও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে শরিয়তসম্মতভাবে ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়, তাহলে শুধু ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে না—এমনটাই উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ফিকহি মতের আলেমরা।

আরও পড়ুনঃ  রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমে জেগে উঠুক হৃদয়, সুন্নাহয় সাজুক জীবন

এ অবস্থায় বৈধভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য শরিয়তের নিয়ম মেনে নতুন করে আকদ সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন করে বিয়ে করতে যা প্রয়োজন

বৈধভাবে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করতে সাধারণভাবে—

  1. মহর নির্ধারণ করতে হবে;
  2. প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে;
  3. পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ  ৭৩ দিনেই পুরো কোরআন মুখস্থ করল ১৩ বছরের মুসাইব

শরিয়তসম্মতভাবে নতুন আকদ সম্পন্ন হলে তখন থেকেই বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ হবে।

কাবিননামার গুরুত্ব কী?

কাবিননামা বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধন ও প্রমাণপত্র। ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মহরসহ বিভিন্ন অধিকার ও দায়িত্বের বিষয় প্রমাণে এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করাই বিয়ের একমাত্র ভিত্তি নয়।

তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার ওপর নির্ভর না করে শরিয়তসম্মত ইজাব-কবুল ও প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদীর, আল-বাহরুর রায়েক, মাজমাউল আনহুর, রদ্দুল মুহতার ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া।