ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাউফলের হাফেজ নূর বঙ্গভবনে আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ফতুল্লায় ইজিবাইক গ্যারেজে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেল আশপাশের এলাকা নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বঙ্গভবন ছাড়লেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন কবে, জানা গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার তিন জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি চুয়া সেলিম আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, বায়ু দূষণের শীর্ষে কুচিং কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৪
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ইসলামে অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্ব, মহানবীর সুন্নত পালনে যা করণীয়

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

দানশীলতা, উদারতা ও মানুষের প্রতি ভালো আচরণ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মানুষের প্রতি সদাচরণের পাশাপাশি অতিথির প্রতি সম্মান ও আন্তরিক আতিথেয়তার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সব মানুষের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। (সহিহ বুখারি)

আরব সমাজে ইসলামপূর্ব সময়েও অতিথি আপ্যায়নের প্রচলন ছিল। মহানবী (সা.) সেই ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিকে ইসলামের আদর্শের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করেন। তাঁর জীবনে অতিথির সম্মান ও আপ্যায়ন ছিল মহৎ চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় সুন্নত।

মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে হজরত খাদিজা (রা.) একবার বলেছিলেন, তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায়দের দায়িত্ব নেন, নিঃস্বদের সাহায্য করেন, অতিথির সমাদর করেন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। (সহিহ বুখারি)

হজরত খাদিজা (রা.)-এর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মানুষের বিপদে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অতিথিকে সম্মান করা ও তাঁর প্রয়োজন পূরণ করাও রাসুল (সা.)-এর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীন সাংবাদিকতায় সরকারের কোনো বিধিনিষেধ নেই: তথ্যমন্ত্রী

অতিথির মর্যাদা

ইসলামে অতিথির মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার অতিথির সম্মান করে। (সহিহ বুখারি)

অতিথির অধিকার সম্পর্কেও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাতে কোনো অতিথি এলে তাঁর যথাযথ আপ্যায়ন করা এবং তিনি ভোর পর্যন্ত অবস্থান করলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজন পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। (আল-আদাবুল মুফরাদ)

এ থেকে স্পষ্ট হয়, অতিথি আপ্যায়ন শুধু সামাজিক সৌজন্যের বিষয় নয়; বরং এটি একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন

অতিথি এলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার ও প্রয়োজনীয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর অতিথি আপ্যায়নের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, এরপর তিনি দ্রুত আপ্যায়নের জন্য একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন। (সুরা হুদ: ৬৯)

আরও পড়ুনঃ  সড়ক-বাঁধ রক্ষায় বিন্না ঘাস, গঠন হচ্ছে টেকনিক্যাল কমিটি

এই ঘটনা থেকে অতিথিকে সম্মান করা এবং তাঁর জন্য দ্রুত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে লোকদেখানো আয়োজন বা অপচয় করা ইসলামের আদর্শ নয়। বরং আন্তরিকতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সেবা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

অতিথি আপ্যায়নে যা করণীয়

অতিথি বাড়িতে এলে হাসিমুখে স্বাগত জানানো, সম্মানের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁর প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার ও পানীয় পরিবেশন করতে হবে। অতিথির আরাম ও প্রয়োজনের বিষয়েও যত্নবান হওয়া উচিত।

তবে আতিথেয়তার নামে অযথা খরচ, অপচয় কিংবা লোকদেখানো আয়োজন থেকে বিরত থাকা জরুরি। খাবারের পরিমাণ বা আয়োজন বড় হওয়ার চেয়ে আন্তরিকতা ও সুন্দর আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়ার বাণিজ্য জোরদারের উদ্যোগ

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু কিংবা পথিক—যে-ই অতিথি হয়ে আসুক, তাঁর সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা। একই সঙ্গে অসহায় বা বিপদগ্রস্ত কোনো মানুষ আশ্রয় চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ।

আতিথেয়তায় বাড়ে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি

অতিথি আপ্যায়ন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়। পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর জীবনের আতিথেয়তার আদর্শ অনুসরণ করে মুসলমানদের উচিত অতিথিকে সম্মান করা, সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন করা এবং কোনো ধরনের অপচয় থেকে বিরত থাকা। আন্তরিকতা, উদারতা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অতিথি আপ্যায়ন করলে একদিকে যেমন সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়, অন্যদিকে মহানবী (সা.)-এর মহৎ সুন্নত পালনেরও সুযোগ তৈরি হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাউফলের হাফেজ নূর

ইসলামে অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্ব, মহানবীর সুন্নত পালনে যা করণীয়

আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দানশীলতা, উদারতা ও মানুষের প্রতি ভালো আচরণ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মানুষের প্রতি সদাচরণের পাশাপাশি অতিথির প্রতি সম্মান ও আন্তরিক আতিথেয়তার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সব মানুষের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। (সহিহ বুখারি)

আরব সমাজে ইসলামপূর্ব সময়েও অতিথি আপ্যায়নের প্রচলন ছিল। মহানবী (সা.) সেই ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিকে ইসলামের আদর্শের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করেন। তাঁর জীবনে অতিথির সম্মান ও আপ্যায়ন ছিল মহৎ চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় সুন্নত।

মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে হজরত খাদিজা (রা.) একবার বলেছিলেন, তিনি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায়দের দায়িত্ব নেন, নিঃস্বদের সাহায্য করেন, অতিথির সমাদর করেন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। (সহিহ বুখারি)

হজরত খাদিজা (রা.)-এর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মানুষের বিপদে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অতিথিকে সম্মান করা ও তাঁর প্রয়োজন পূরণ করাও রাসুল (সা.)-এর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  পরিস্থিতি খারাপ হলেই দায় অন্যের—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পুরোনো কৌশল নতুন করে আলোচনায়

অতিথির মর্যাদা

ইসলামে অতিথির মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার অতিথির সম্মান করে। (সহিহ বুখারি)

অতিথির অধিকার সম্পর্কেও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাতে কোনো অতিথি এলে তাঁর যথাযথ আপ্যায়ন করা এবং তিনি ভোর পর্যন্ত অবস্থান করলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজন পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। (আল-আদাবুল মুফরাদ)

এ থেকে স্পষ্ট হয়, অতিথি আপ্যায়ন শুধু সামাজিক সৌজন্যের বিষয় নয়; বরং এটি একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন

অতিথি এলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার ও প্রয়োজনীয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর অতিথি আপ্যায়নের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, এরপর তিনি দ্রুত আপ্যায়নের জন্য একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন। (সুরা হুদ: ৬৯)

আরও পড়ুনঃ  প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়ার বাণিজ্য জোরদারের উদ্যোগ

এই ঘটনা থেকে অতিথিকে সম্মান করা এবং তাঁর জন্য দ্রুত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে লোকদেখানো আয়োজন বা অপচয় করা ইসলামের আদর্শ নয়। বরং আন্তরিকতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সেবা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

অতিথি আপ্যায়নে যা করণীয়

অতিথি বাড়িতে এলে হাসিমুখে স্বাগত জানানো, সম্মানের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁর প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার ও পানীয় পরিবেশন করতে হবে। অতিথির আরাম ও প্রয়োজনের বিষয়েও যত্নবান হওয়া উচিত।

তবে আতিথেয়তার নামে অযথা খরচ, অপচয় কিংবা লোকদেখানো আয়োজন থেকে বিরত থাকা জরুরি। খাবারের পরিমাণ বা আয়োজন বড় হওয়ার চেয়ে আন্তরিকতা ও সুন্দর আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক-বাঁধ রক্ষায় বিন্না ঘাস, গঠন হচ্ছে টেকনিক্যাল কমিটি

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু কিংবা পথিক—যে-ই অতিথি হয়ে আসুক, তাঁর সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা। একই সঙ্গে অসহায় বা বিপদগ্রস্ত কোনো মানুষ আশ্রয় চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ।

আতিথেয়তায় বাড়ে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি

অতিথি আপ্যায়ন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ায়। পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর জীবনের আতিথেয়তার আদর্শ অনুসরণ করে মুসলমানদের উচিত অতিথিকে সম্মান করা, সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন করা এবং কোনো ধরনের অপচয় থেকে বিরত থাকা। আন্তরিকতা, উদারতা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে অতিথি আপ্যায়ন করলে একদিকে যেমন সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়, অন্যদিকে মহানবী (সা.)-এর মহৎ সুন্নত পালনেরও সুযোগ তৈরি হয়।