মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে নিজের প্রশাসনের দায় এড়িয়ে পূর্বসূরি বা অন্য পক্ষের ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। অর্থনীতি, জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের সমস্যাতেও তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রচলিত একটি ধারণা হলো—সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটিরই রাজনৈতিক দায় নেতৃত্বকে নিতে হয়। তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকৌশলে এর বিপরীত প্রবণতা দেখা যায় বলে সমালোচকদের দাবি। বিশেষ করে কোনো ইস্যুতে জনমত নেতিবাচক হলে তিনি প্রায়ই পূর্ববর্তী প্রশাসন, কংগ্রেস কিংবা অন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করেন।
অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির দায় বাইডেনের ওপর
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বারবার তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য, ক্ষমতায় ফেরার আগে ট্রাম্প নিজেই দ্রুত অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে দীর্ঘ সময় পরও অর্থনৈতিক চাপের জন্য আগের প্রশাসনকে দায়ী করা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবেও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্যও ট্রাম্প অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নীতিকে দায়ী করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় ব্যর্থতার ফল এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হচ্ছে। চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে মার্কিন নাগরিকদের উচ্চ জ্বালানি মূল্য মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানাতে হয়েছে।
রিফ্লেক্টিং পুল নিয়েও বিতর্ক
ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সংস্কারের পর পুলের পানিতে শ্যাওলা ছড়িয়ে পড়া এবং নিচের নতুন আবরণ উঠে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
ট্রাম্প প্রথমদিকে এসব সমস্যার পেছনে নাশকতা বা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় সাবেক অলিম্পিক ক্যানোয়িস্ট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীদের বক্তব্য, সংস্কারকাজের সমস্যার দায় অন্যের ওপর চাপাতেই মামলাটি সামনে আনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন পুলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে অভিযোগ আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে সরকারি পর্যায়েও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের চোখে এটি রাজনৈতিক কৌশল
ট্রাম্পের সমালোচকদের মতে, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নেওয়া এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে অন্য পক্ষকে দায়ী করা। এতে প্রেসিডেন্টের জবাবদিহির প্রচলিত ধারণা দুর্বল হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ থাকলে রিপাবলিকান প্রার্থীদেরও এর রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করতে হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের পাল্টা বক্তব্য
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট শুধু সমস্যার জন্য পূর্বসূরিদের দায়ী করছেন না; বরং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বাস্তব পদক্ষেপও নিচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর ছাড়, ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ, সীমান্তে কঠোর নীতি এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর মতো পদক্ষেপকে ট্রাম্প সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিতর্কটি মূলত একটি প্রশ্নকে ঘিরেই—প্রেসিডেন্ট কি আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যার দায় তুলে ধরছেন, নাকি নিজের প্রশাসনের ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিকভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন? সমালোচক ও হোয়াইট হাউস—দুই পক্ষের ব্যাখ্যা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্রতিবেদকের নাম 



















