কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর কালিয়াটারি গ্রামে এক চীনা নাগরিকের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে গত দুই দিন ধরে ভিড় করছেন শত শত উৎসুক মানুষ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপুর এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেন ও শাহেরা বেগম দম্পতির মেয়ে মোর্শেদা বেগম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সাভারে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসা চীনা নাগরিক আন হংওয়েইয়ের সঙ্গে তার মুঠোফোনে পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় ধীরে ধীরে সম্পর্কে রূপ নেয়।
পরিবারের সম্মতিতে গত ৯ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয় এবং ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
বর্তমানে মোর্শেদা বেগম তার স্বামীকে নিয়ে মামা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বিয়ের পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো স্বামীকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন মোর্শেদা। তখন আন হংওয়েই নিজেকে চীনের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, চীনা নাগরিকের পাসপোর্ট ও ভিসাসহ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আন হংওয়েইয়ের বাড়ি চীনের শানডং প্রদেশের দাতুন টাউনের ঝাওঝেনতুন গ্রামে। তিনি ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট।
মোর্শেদা বেগম জানান, গত ৩ এপ্রিল মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়। পরে পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “অল্প দিনের ভালোবাসাতেই আমরা বিয়ে করেছি। সে আমাকে চীনে নিয়ে যেতে চায়। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ মে আমরা চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।”
তিনি আরও জানান, এর আগে তার একটি বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
চীনা নাগরিক আন হংওয়েই বলেন, ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে এসে তিনি মোর্শেদার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তারা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তিনি মোর্শেদাকে নিয়ে চীনে সুন্দরভাবে সংসার করতে চান বলে জানান।
স্থানীয়রা জানান, বিদেশি নাগরিককে দেখতে এলাকায় ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। তবে তারা নবদম্পতির সুখী জীবন কামনা করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম জানান, বিয়ের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে তারা আইনিভাবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
ফুলবাড়ী থানার ওসি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















