বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন থেকে আর্জেন্টিনা এখন মাত্র এক ধাপ দূরে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, জাতীয় সংগীতের সময়ই পুরো দল উপলব্ধি করেছিল ম্যাচটির গুরুত্ব।
তিনি বলেন, ‘এটা ছিল অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। জাতীয় সংগীতের মুহূর্তেই বুঝেছিলাম, এটি সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। পুরো আর্জেন্টিনা এই জয় চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য পূরণ করে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরে দারুণ লাগছে।’
ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও দল যে আত্মবিশ্বাস হারায়নি, সেটিকেই জয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মেসির ভাষায়, ‘পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্য। কঠিন মুহূর্তেও আমরা বিশ্বাস হারাইনি। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছি, প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছি। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলের সামর্থ্য নিয়ে তার পূর্ণ আস্থা ছিল বলেও জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম এই দল শেষ চারে থাকবে এবং শিরোপার জন্য লড়বে। এখন আবারও ফাইনালে উঠেছি। টানা পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল—এটা সত্যিই অসাধারণ অর্জন।’
সমালোচকদেরও জবাব দিয়েছেন মেসি। তার মতে, কয়েকজন ফুটবলার পুরোপুরি ফিট না থাকায় অনেকেই দলকে নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তবে দলগত ঐক্যই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
‘এই দল আমাকে অবাক করে না। অনেকের সন্দেহ ছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু আমরা একসঙ্গে থাকলে সবসময় নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।’—বলেন তিনি।
আগামী রোববার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করেই মেসি বলেন, ‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। বহু বছর ধরে তারা একই ধারার ফুটবল খেলছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল সবসময়ই বিশেষ। আমি মনে করি, এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মেসি বলেন, ‘এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। যদি হারতাম, অনেকেই নানা বোকামিপূর্ণ কথা বলত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। আমরা জানতাম, ফুটবলীয় সামর্থ্যে আমরা তাদের চেয়ে ভালো। তবে এমন ম্যাচে ইতিহাস, আবেগ ও চাপ—সবকিছুই কাজ করে।’
প্রতিবেদকের নাম 

















