
বগুড়ায় ডিবি পুলিশের হেফাজতে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ দাবি করেছে, রোববার সকালে তিনি হাজতখানার বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে লুঙ্গি প্যাঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে ডিবি পুলিশ তাকে বগুড়া স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
আসাদুজ্জামান আসাদ (২৫) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সীর ছেলে।
বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, যাত্রীবেশী তিন দুর্বৃত্ত গত ২৮ জুন রাতে বগুড়া মহানগরীর বউবাজার এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে। তারা সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকায় রাস্তার পাশে নিয়ে চালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকারীরা অটোচালকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা অটো রিকশা নিয়ে নওগাঁয় পালিয়ে যায়।
পরে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে তারা অটোরিকশা রেখে আত্মগোপন করে। এ ব্যাপারে নিহত মান্নানের স্বজনরা ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত আবদুল মান্নান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ইসলামী সমাজ নামে একটি রাজনৈতিক দলের বগুড়া জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন।
এদিকে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে সন্দিগ্ধ আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেফতার করে। ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নানকে যাত্রীবেশে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়। এছাড়া আসাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে তাকে নিয়ে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতার ও ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল। রোববার দুপুরে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল।
রোববার সকাল ১০টার দিকে নাস্তার পর আসাদ ডিবি অফিসের হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট অতিবাহিত হলেও তিনি বের না হওয়ায় অন্য হাজতিরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় পরনের লুঙ্গিতে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আসাদের বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি পুলিশ হেফাজতে তার (আসাদ) মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং ওসি ডিবি ইকবাল বাহার জানান, অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার সন্দিগ্ধ আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের আত্মহত্যার বিষয়ে তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 





















