বগুড়া শহরের উপকণ্ঠ ফাঁপোর এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। আরেক অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। সেই সুযোগে তিন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এর ফলে ওই নারী বর্তমানে প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে বগুড়া সদর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। এ সময় আরও একজনকে আটক করা হলেও পুলিশের উপস্থিতির আগেই তিনি পালিয়ে যান।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আটক দুজন হলেন ফাঁপোর পূর্বপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন (৩০) ও শহিদুল ইসলাম (৩২)। পলাতক অভিযুক্তের নাম মাহবুবুর রহমান। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানতে চাইলে স্ত্রী অভিযোগ করেন, মাহবুবুর রহমান, আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম তাকে কয়েক মাস ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছেন।
তিনি প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর কাছে বিচার চান। তবে ফাঁপোর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রায়হান জানান, ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের নেই। তাই অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি: 

























