ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় উধাও, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। দুই পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার শুল্ক ও কর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড।

সিআইসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  সামান্তা শারমিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু কারখানার গুদাম পরিদর্শনে এর প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সিআইসির অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়েছে, এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

কারখানার পুরো প্রাঙ্গণে আমদানি করা কাপড়ের মাত্র ১ শতাংশেরও কম পাওয়া যায়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট ইউডির বিপরীতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া এসব কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় গুদামে না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত লঙ্ঘনের তথ্যও উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

সিআইসির অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কিনেছে। এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমেও মূসক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বন্ড সুবিধার আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে সেই সুবিধার অপব্যবহার করে কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে এবার দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সামনে আনল এনবিআরের সিআইসি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় উধাও, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ

আপডেটের সময়: ১২:২০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। দুই পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার শুল্ক ও কর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড।

সিআইসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কে: কপ-৩১-এ বাংলাদেশের জলবায়ু ক্ষতির জোরালো দাবি”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু কারখানার গুদাম পরিদর্শনে এর প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সিআইসির অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়েছে, এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

কারখানার পুরো প্রাঙ্গণে আমদানি করা কাপড়ের মাত্র ১ শতাংশেরও কম পাওয়া যায়। অথচ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট ইউডির বিপরীতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আরামকো টাওয়ারে আঘাতের দাবি

সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া এসব কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় গুদামে না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এসব কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত লঙ্ঘনের তথ্যও উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিটে তথ্য সচিবের বক্তব্য

সিআইসির অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কিনেছে। এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমেও মূসক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বন্ড সুবিধার আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে সেই সুবিধার অপব্যবহার করে কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে এবার দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সামনে আনল এনবিআরের সিআইসি।