
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের ৬ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, থানার হাজতে থাকাকালে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর রাতে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।
অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রিয়াজ ফকিরের বাবা-মায়ের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিয়াজ ফকির নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















