মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রযুক্তিকেন্দ্র পেনাংয়ে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।
একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে পেনাংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পেনাংয়ের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পেনাং অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চাও কন ইয়োর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন হাইকমিশনার। পেনাংয়ের প্রশাসনিক কেন্দ্র কোমতার ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও পেনাংয়ের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দুই পক্ষের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা।
সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
আলোচনায় বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
পাশাপাশি পেনাংয়ের বিকাশমান সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
পেনাং মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রধান শিল্প ও প্রযুক্তিকেন্দ্র। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। এ খাতে পেনাংয়ের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প বিকাশে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে উঠে আসে।
চট্টগ্রাম-পেনাং সরাসরি যোগাযোগের আলোচনা
বাংলাদেশ ও পেনাংয়ের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে সরাসরি সমুদ্র ও আকাশপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে পেনাং ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে পেনাংয়ের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর মাধ্যমে মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি বন্দর ও বিমান যোগাযোগ চালু হলে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে।
স্বাস্থ্য পর্যটনেও সহযোগিতার সম্ভাবনা
বৈঠকে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পর্যটন বা চিকিৎসাভিত্তিক পর্যটনে বাংলাদেশ ও পেনাংয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পেনাং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। ফলে বাংলাদেশের রোগী ও পর্যটকদের জন্য পেনাংয়ের স্বাস্থ্যসেবা খাতে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশে পেনাংয়ের বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
পেনাং থেকে বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ-পেনাং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা, পেনাংয়ে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শাইখ ইসমাইল আলাউদ্দিন, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) তানজিম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















