
রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম। বৈরী আবহাওয়া, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মাছ, মুরগি, ডিম ও অধিকাংশ সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা।
মাছের বাজারে বাড়তি চাপ
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিঠাপানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
মুরগির দামেও ঊর্ধ্বগতি
পোলট্রি বাজারেও মিলছে না স্বস্তি।
- ব্রয়লার মুরগি: ১৮০ টাকা (আগে ছিল ১৬০ টাকা)
- সোনালি মুরগি: প্রায় ৩২০ টাকা কেজি
- দেশি মুরগি: কিছুটা কমে ৬৫০ টাকা কেজি
ফলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের জোগান নিশ্চিত করাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
ডিমের বাজারেও অস্বস্তি
সীমিত আয়ের মানুষের অন্যতম ভরসা ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকার বেশি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকি দুর্বল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সবজির দামও চড়া
রাজধানীর মহাখালী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে—
- গোলবেগুন: ১২০–১৪০ টাকা
- করলা: ১০০–১২০ টাকা
- কচুরলতি: ১০০–১২০ টাকা
- বরবটি: ১০০–১২০ টাকা
- কাঁকরোল: ১০০–১২০ টাকা
তবে কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, লাউ ও পটল।
পেঁয়াজের দামও বেড়েছে
আমদানি কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
কেন বাড়ছে দাম?
বিক্রেতাদের ভাষ্য, টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ফসলের ক্ষতির কারণে বাজারে সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তাদের মতে, নতুন মৌসুমের সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে না আসা পর্যন্ত বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।
প্রতিবেদকের নাম 



















