ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে ব্যবহৃত কালো রঙের প্রাডো গাড়ি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সেটি সামনে রেখেই শোডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গুজব ও অপপ্রচার’ ছড়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি সাবেক, নির্যাতিত ও অবহেলিত বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে এই শোডাউন করার কথা জানিয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
‘যেই গাড়িকে ঘিরে গুজব, সেটিই থাকবে সামনে’
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে কারা নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত ও সাবেক বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে গাড়ি শোডাউন করা হবে।
তিনি বলেন, যে গাড়িকে ঘিরে গুজব ছড়ানো হয়েছে, সেই গাড়িটিই শোডাউনের সামনে থাকবে।
পাটওয়ারী আরও বলেন, খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী কোনো সাবেক, নির্যাতিত বা অবহেলিত বিএনপি নেতাকর্মীর ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তাদের পাশে থাকার পাশাপাশি সম্মান ও উপযুক্ত মূল্যায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
যে অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে লংড্রাইভ করেছেন। রোববার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে গাড়িটি নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার পাটওয়ারীর
রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, এ বিষয়ে যিনি পোস্ট করেছেন, তাকেই প্রশ্ন করা উচিত। তিনি নিজে কোনো ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, রাশেদ খাঁন মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
গাড়ির মালিক নিয়ে দ্য ডিসেন্টের তথ্য
এদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের যাচাই অনুযায়ী, লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন, সেটির মালিক মনিরুল হক ভুঁইয়া, যিনি তুষার ভুঁইয়া নামেও পরিচিত।
তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দ্য ডিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তুষার ভুঁইয়া মাদারীপুর সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং ২০২৪ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।
তুষার ভুঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পাল্টা দাবি
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে আরও বলা হয়, তুষার ভুঁইয়ার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, যিনি বাচ্চু ভুঁইয়া নামেও পরিচিত, ১৯৮৮ সালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। পাশাপাশি মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
দ্য ডিসেন্টের হাতে থাকা বিভিন্ন ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলেও তুষার ভুঁইয়াকে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
তবে এই যাচাইয়ের পর পাল্টা বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, তুষার ভুঁইয়া একসময় বিএনপি করলেও পরে দলটি ছেড়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হন। ২০১৯ সাল থেকে বিএনপি স্থানীয় নির্বাচন বর্জন শুরু করলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখাতে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।
ফলে গাড়িটির মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















