ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর হিমাগারে ৭৭ হাজার টন আলু নিয়ে শঙ্কা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত শীতলকরণ

হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান আইজিপির

বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন চালু রাখা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বীজ আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও উদ্বিগ্ন। আগামী মৌসুমের জন্য রাখা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতদের বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা

চওড়া বড়গাছা এলাকার কৃষক রফিক ইসলাম বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য তিনি হিমাগারে বীজ আলু রেখেছেন। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

হিমাগারে আসা ব্যবসায়ী রাসেল আলী বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। হিমাগার মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

আরও পড়ুনঃ  বঞ্চনা নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকদের মূল্যায়ন হবে: শিক্ষামন্ত্রী

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে যদি এক ঘণ্টা সময় লাগে, কিন্তু ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর হিমাগারে ৭৭ হাজার টন আলু নিয়ে শঙ্কা

আপডেটের সময়: ০৯:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর হিমাগার মালিক ও আলুচাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে জেনারেটর চালিয়ে হিমাগারের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে জেলার ১১টি হিমাগারে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত শীতলকরণ

হিমাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্মীয়-রাজনৈতিক বিভাজনে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের মাধ্যমে মেশিন চালু রাখা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পরে আবার শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও শ্রম খরচ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বীজ আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকরাও উদ্বিগ্ন। আগামী মৌসুমের জন্য রাখা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে সারজিসের তীব্র নিন্দা

চওড়া বড়গাছা এলাকার কৃষক রফিক ইসলাম বলেন, আগামী মৌসুমে জমিতে রোপণের জন্য তিনি হিমাগারে বীজ আলু রেখেছেন। কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বীজ আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

হিমাগারে আসা ব্যবসায়ী রাসেল আলী বলেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। হিমাগার মালিকরা জেনারেটর চালিয়ে কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয় না। আলু নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।

আরও পড়ুনঃ  ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সিফাত

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে।

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে যদি এক ঘণ্টা সময় লাগে, কিন্তু ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়।