ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসি মানেই আর্জেন্টিনা। তবে সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ একটি তথ্য—বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার পারিবারিক শেকড়ের একটি অংশ জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের সঙ্গে। যদিও সেই ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল না তার।
ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনি পরিচালিত গবেষণার বরাত দিয়ে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, মেসির প্রপিতামহের জন্ম হয়েছিল ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে। পরে পরিবারটি আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
ইতালি থেকে ব্রাজিল, তারপর আর্জেন্টিনা
গবেষণায় বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষ ভাগে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয় অভিবাসনের ঢেউয়ের সময় মেসির পূর্বপুরুষরা ইতালি ছেড়ে ব্রাজিলে আসেন।
মেসির প্রপিতামহের বাবা রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনি ও তার স্ত্রী রোজা রিচেজ্জা প্রথমে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। সে সময় অভিবাসীদের নামের বানান পরিবর্তন হওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। ফলে রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নাম সরকারি নথিতে ‘রামিয়েরো কনসেন্টিনি’ হিসেবে নিবন্ধিত হয়।
পরে পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামীণ এলাকায় কফি খামারে কাজ শুরু করে। সেখানেই জন্ম নেন তাদের এক সন্তান, যার নামও নিবন্ধনের সময় পরিবর্তিত হয়ে ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনি হয়। তিনিই ছিলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।
এক বছর বয়সেই পাড়ি আর্জেন্টিনায়
ফেদেরিকোর বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন পুরো পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। এরপর থেকেই ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের পারিবারিক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে এই রোজারিও শহরেই জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল মেসি এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার কিংবদন্তি ফুটবলযাত্রা।
তাহলে কি ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারতেন?
গবেষণার পর অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—পারিবারিক শেকড় ব্রাজিলে থাকায় মেসি কি সেলেসাওদের হয়ে খেলতে পারতেন?
এর উত্তর হলো না।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বহু প্রজন্ম আগের পূর্বপুরুষের জন্মস্থান কোনো খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দেশের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা দেয় না। এজন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব বা আইনি যোগসূত্র।
মেসির জন্ম, নাগরিকত্ব, বেড়ে ওঠা এবং ফুটবল ক্যারিয়ারের ভিত্তি—সবই আর্জেন্টিনায়। বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে সিনিয়র জাতীয় দল, কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ—সব ক্ষেত্রেই তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন আকাশি-সাদা জার্সিকে।
ইতিহাসে নতুন তথ্য, বদলায়নি পরিচয়
ফিওরেঞ্জো সান্তিনির গবেষণা মেসির পারিবারিক ইতিহাসে নতুন একটি তথ্য যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয় অভিবাসনের ঐতিহাসিক প্রভাবও নতুনভাবে সামনে এনেছে।
তবে এই আবিষ্কার মেসির ফুটবল পরিচয়ে কোনো পরিবর্তন আনে না। ফুটবল বিশ্বে তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি হিসেবেই।
প্রতিবেদকের নাম 

























